মায়ের পর ইউপি নির্বাচনে জয় পেলেন ৩ বোন

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন দুই বোন। এর আগে তৃতীয় ধাপে তাদের আরেক বোন ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। নাটোরের এ তিন বোন এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

ইউপি সদস্য পদে জয়লাভ করা তিন বোন হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বড় বোন হালিমা বেগম (৪৩), একই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেজো বোন নাসিমা বেগম (৪১) এবং তৃতীয় ধাপে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচিত ছোট বোন শাহনাজ পারভীন (৩৯)।

জানা গেছে, তাদের বাবা জীবিত থাকতে ইউনিয়ন সদস্য পদে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি। এরপর মা সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। মায়ের পর এবার তিন বোন ভোটে জয় পেলেন। তাদের মা আলেয়া বেগম বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন।

বড় বোন হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার বাবা আব্দুস সাত্তার একবার সদস্য পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল একদিন ইউপি নির্বাচন করবো। ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।’

নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার মা ইউপি নির্বাচনে নারী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মায়ের কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে মানুষের সেবা করতে হয়। সেই পথ অনুসরণ করেই মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজকে ধন্য মনে করছি।’

শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘মানুষ আমাদের ভালোবেসে ভোট দিয়েছে। তাদের যে বিশ্বাস সেবার মাধ্যমে এর মর্যাদা রাখতে চাই।’

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুখময় সরকার বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে তিন বোন নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি খুবই চাঞ্চল্যকর। আমর চাই, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষদের পাশে দাঁড়াবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ওই তিন বোনের এক ভাই রয়েছে আনিছ। তার মা আলেয়া বেগমও দীর্ঘদিন ইউপি সদস্য ছিলেন। মায়ের মতো ওই তিন বোন যেন মানুষের সেবা করতে পারে সেই প্রত্যাশা করছি।’

মা আলেয়া বেগম বলেন, ‘তিন মেয়ে একসঙ্গে নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেয়েরা কাজ করতে পারবে- এ আমার বিশ্বাস।’