সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গ্রাহকের মৃত্যু, পিডিবি কর্মকর্তাদের মারধর

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে একজন গ্রাহক মারা গেছেন। স্বজনেরা বলছেন,অভিযানে অংশ নেওয়া লোকজন ওই গ্রাহককে মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং লাঞ্ছিত করে। নিহত গোলাম মোস্তফা স্বপন (৪৫) সাবেক সেনাসদস্য বলে জানা গেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকার হোসেনপুর মোল্লাবাড়ি মহল্লায় বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান পিডিবির নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী দেওয়ান আবু হেনা মোস্তফাসহ ৭ কর্মককর্তা-কর্মচারী।তারা ছাদের ওপর চলে যান লাইন কাটতে। এসময় গোলাম মোস্তফা স্বপন বাঁধা দিলে ধ্স্তাধস্তির এক পর্যায়ে মোস্তফা ছাদ থেকে পড়ে যান।হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে সদর থানার ওসি হাবিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে বিদ্যুত বিভাগের লোকজনকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত গোলাম মোস্তফার বড় ভাই গোলাম আযম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর আকস্মিক বিদ্যুত চলে গেলে আমাদের বাড়িতে বিদ্যুত বিভাগের লোকজন অভিযান চালান।পিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহবুব হোসেন,মোস্তাফিজুর রহমান ও ফোরম্যান নুরন্নবীসহ ৫/৬ জন লোকজন সোজা ছাদে গিয়ে লাইন বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়। এসময় আমার ছোট ভাই (গোলাম মোস্তফা) বাঁধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা আমার ভাইকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ির ছাঁদ থেকে ফেলে দেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বিদ্যুত বিভাগের লোকজনকে মারধর করে আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পিডিবির নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলী দেওয়ান আবু হেনা মোস্তফা বলেন,অবৈধভাবে বিদ্যুত সংযোগ নিয়ে চুরি করে হিটার চালাচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেনপুর মোল্লাবাড়ি মহল্লায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে অবৈধ হিটার চালানো দেখে বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করতে গেলে স্থানীয় লোকজন আমাদেরও বেধড়ক মারধর করে। আমাদের অবস্থা দেখে গ্রাহক সাবেক সেনাসদস্য স্বপন ভয়ে নিজেই স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। আমাদের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হলে তারা আমাদের উদ্ধার করে।
সদর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগামীকাল ( বুধবার) লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
/এআর//এমএসএম/আপ-এআর/