ইউএনওর গাড়ির চাপায় প্রাণ গেলো সাংবাদিকের

নাটোরের সিংড়ার নিংগইন ফিলিং স্টেশনের সামনে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৯ মে) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান তিনি।

নিহত সোহেল আহমেদ জীবন (৩০) সিংড়া পৌরসভার বালোয়া-বাসোয়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি বগুড়ার দৈনিক ‘দুরন্ত সংবাদের’ সিংড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।

সিংড়া থানার ওসি নুর এ আলম সিদ্দিকী জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ বাসা থেকে ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাচ্ছিলেন সোহেল। পথে নিংগইন ফিলিং স্টেশনের সামনে নলডাঙ্গা ইউএনওর গাড়ি তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তখন গাড়িতে ওই ইউএনওর স্ত্রী সিংড়ার গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মানসি দত্ত মৌমিতা ছিলেন।

দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলডাঙ্গার ইউএনও সুখময় সরকার দুর্ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী সকাল ৯টায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টে (গণপরিবহন) কলেজে যায়। গাড়িচালক ইউএনও’কে অফিসে পৌঁছে দিয়ে তেল নিতে সিংড়া যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় গাড়িতে চালক ছাড়া কেউ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে গাড়ি চালক ছাড়া কোনও নারীকে দেখেননি। গাড়িতে চালক ছাড়া অন্য কেউ ছিল বলে কেউ তাদের কাছে দাবি করেননি। তবে তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

সিংড়া মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু আহমেদ দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার প্রতি আহ্বান জানান।