জেলে থাকা অবস্থায় বন্ধু রাসেলের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে রাকিবের। এর জের ধরে রাসেলকে তালাক দেয় তার স্ত্রী। পরে ১২ মে ওই নারীকে বিয়ে করেন রাকিব। কিন্তু মাত্র ছয় দিন সংসারের পর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় রাকিবের। কিন্তু ওই ছয় দিনের সংসারই তার জন্য কাল হয়। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় রাকিবকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে রাসেলের বিরুদ্ধে। তবে বুধবার (১ মে) নাটোর রেলস্টেশন ওভারব্রিজের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনও মামলা হয়নি।
নিহত রাকিব শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে। মামলা না করার বিষয়ে স্বজনরা বলছেন ভয়ে তারা কোনও মামলা করেননি। তারা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো ব্যবস্থায় বা পদক্ষেপে আস্থা রাখতে রাজি নন।
সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় জামিনে বেরিয়ে বন্ধুকে খুনরাকিবের বড় ভাই সাকিল বলেন, রাসেলের সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করার ছয় দিনের মাথায় তালাক দেয় রাকিব। পরে তার কাছে ৮০ হাজার টাকা মোহরানা দাবি করলে রাকিব আদালতের আদেশ ও নির্দেশনামতো তা পরিশোধের কথা বলে। এ নিয়ে তার সাবেক স্ত্রী তাকে হুমকিও দেয়। এ ঘটনায় ২২ মে রাকিব নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নাটোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত রাসেল বাড়িতে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে। সে জানায় রাকিবকে খুন করার জন্য হাজিপাড়ার মাহমুদ তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে রাকিব ও রাসেলের বন্ধু পার্থ রাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা একসঙ্গে চা পান করে। পরে রাকিবকে রেলস্টেশনের ওভারব্রিজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করছিল রাসেলসহ আরও তিন-চার জন। ওই সময় রাকিবের বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে রাসেল। স্থানীয়রা উদ্ধার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার না করার বিষয়ে রাকিবের বড় ভাই বলেন, মামলা করে রাসেলের টার্গেট হতে চাই না। তবে প্রধানমন্ত্রী যদি ব্যবস্থা নেন, তাহলে আমরা ন্যায়বিচার পাবো।
স্বজনরা বলেন, রেলস্টেশন ও এর আশপাশে অনেক সিসিটিভি রয়েছে। এছাড়া শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এমন অবস্থায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে খুনিদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।
এদিকে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান ও স্থানীয় আ'লীগ নেতা সৈয়দ মোর্তজা আলী বাবলু হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, ওই ঘটনায় কোনও মামলা বা অভিযোগ পাইনি। ঘটনাস্থল যেহেতু রেলস্টেশন এলাকায় তাই ওই মামলার দায়িত্ব রেলপুলিশের-এমন দাবিও করেন তিনি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে রাকিবের করা কোনও জিডির তথ্য জানি না।