প্রথম স্ত্রীর করা মামলায় স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে আদালতে বাদী পরিচয়ে এসে ধরা পড়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই নারীর নামে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ পারিবারিক জজ আদালতে। পরে আদালতের বিচারক সহকারী জজ মো. লোকমান হাকিম ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন। পরে মামলার প্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার রুখসানা কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামের জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন জানান, জহিরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে রুখসানা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি করে প্রথম স্ত্রী রুবিনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বিচারক লোকমান হাকিম আসামি জহিরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে বুধবার জহিরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী রুখসানা আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে মামলার বাদী রুবিনা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আপস-মীমাংসার কথা বলে কারাবন্দি স্বামীকে জামিনে মুক্ত করার আবেদন জানান। একইসঙ্গে বিচারাধীন মামলাটি প্রত্যাহার করতে চান তিনি।
শুনানিকালে বিচারক সহকারী জজ (পারিবারিক আদালতের জজ) মো. লোকমান হাকিম বাদীর স্বাক্ষরের সঙ্গে মামলার কাগজ ও অন্যান্য নথির স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখেন। এ অবস্থায় স্বাক্ষরে গড়মিল দেখা দেওয়ায় তাকে ও তার কথিত দেবরকে জেরা করে বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য পান। পরে স্থানীয় সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জহিরুলের দুই শিশু সন্তানকে আদালতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি মামলার বাদী রুবিনা নন। পরে বিচারক মো. লোকমান হাকিম আসামি জহিরুলের জামিন নামঞ্জুর করেন। পাশাপাশি রুখসানা আক্তারের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী সাব্বির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে রুখসানাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মামলার আইনজীবীদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে, তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন।