শিক্ষার্থীর মৃত্যু: রামেক কর্তৃপক্ষ ও রাবি প্রশাসনের মামলা নথিভুক্ত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী এস জে এম শাহরিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। 

শনিবার রাত ১২টার দিকে রাবি প্রশাসন ও রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগগুলো গতকাল রাতে রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’

রামেক হাসপাতালে শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে গতকাল বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম নগরের রাজপাড়া থানায় অভিযোগ করেন। এতে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১৯ অক্টোবর আনুমানিক সাড়ে ৮টায় গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত শাহরিয়ারকে চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে না নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক ও নার্স দেরিতে আসেন এবং নানা অজুহাতে চিকিৎসা প্রদানে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। ফলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিলম্ব ও বিনা চিকিৎসায় শাহরিয়ার মৃত্যুবরণ করেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রামেক হাসপাতালে পৌঁছান এবং চিকিৎসকের অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। সেই সময় ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও তার আশেপাশের ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক, ইন্টার্ন, নার্স, আনসার ও তাদের উচ্ছৃঙ্খল সহযোগীরা ন্যাক্কারজনকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকার্ত শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে, অকথ্য গালিগালাজ করে এবং আকস্মিকভাবে হামলা চালায়।

হামলায় তারা লাঠি এবং শল্যচিকিৎসায় ব্যবহৃত ধারালো যন্ত্র দিয়ে আনুমানিক শতাধিক শিক্ষার্থীকে গুরুতরভাবে আহত করে। আহত শিক্ষার্থীদের অনেককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র, বারিন্দ মেডিক্যালসহ রাজশাহীর অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে গত ২০ অক্টোবর একই থানায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধর ও হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে একটি অভিযোগ করে রামেক কর্তৃপক্ষ। সেখানে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়।

আরও খবর—

হলের ছাদ থেকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, রামেক হাসপাতাল ভাঙচুর