জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, মামলার এক নাম্বার আসামি রাকিব, রাকিবের বাবা ফজলু এবং কমল। এর আগে মঙ্গলবার আজিজুল ইসলাম এবং তার ছেলে উজ্জ্বল হোসেনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
বুধবার সিনিয়ার জুডিশিয়াল আদালত থেকে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়। তবে মঙ্গলবার তথ্য গোপন করে ওই আদালত থেকে এ মামলার দুই আসামি জামিন নিয়েছেন বলে জানান এপিপি রাশেদ উন নবী আহসান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত-১ এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার সাত আসামি। তবে নির্যাতিত শিশুদের বয়স বিচারক একরামুল কবীরের নজরে আসায় তিনি আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ না করে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠিয়ে দেন। শিশু আদালত থেকে বুধবার আরও তিন আসামি জামিন নিলেন। ফলে বাকি রইলো আট আসামির জামিন।
নির্যাতনের শিকার জাহিদের বাবা ইমরান হোসেন আরও বলেন, ’আশা করেছিলাম আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাব। কিন্তু একের পর এক আসামি জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছি। জানতে পেরেছি, পুলিশ দুর্বল ধারায় মামলা রেকর্ড করেছে। তাই আসামিরা সহজে জামিন পাচ্ছেন। এভাবে জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলে আমাদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হবে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী দিল সিতারা চুনি অভিযোগ করেন, আটক, অপহরণ, মারপিটসহ বিভিন্ন সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ মামলাটি ৩৬৪ ধারায় রেকর্ড করেনি। সেনা ও র্যাবের সদস্য আসামি থাকায় পুলিশ কৌশলে ৩২৩ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করেছে। ফলে একের পর এক আসামি জামিন পেয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মোবাইল চুরির অভিযোগে শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জাহিদ হাসান (১৫) ও ইমন (১৩) নামের দুই শিশুকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। আহত দুই শিশুর মধ্যে শনিবার সকালে জাহিদ হাসানকে পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। আর ভয় ও আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ইমন। রবিবার রাতে তাকে উদ্ধারের পর একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে জাহিদ হাসানের বাবা ইমরান আলী পবা থানায় এক সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
/বিটি/ টিএন/