‘বিশ্বকবির অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে সগৌরবে পৌঁছে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্বকবি একাধারে গীতিকবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সমাজ সংস্কারক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। বিশ্বে দারুণভাবে নন্দিত হয়েছেন।’

রবীন্দ্রনাথকে শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকবির চিন্তার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে আমরা সুষম শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে পারবো। এ জন্য রবীন্দ্রনাথের মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (০৮ মে) বিকাল ৩টায় নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রবীন্দ্রজয়ন্তীর এবারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘সমাজ সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ’।

বিশ্বকবির সৃষ্টিকর্ম শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সাহিত্য অনুরাগীদের আন্দোলিত করেছে উল্লেখ করে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশ্বকবিকে হৃদয়ে ধারণ করতেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছিলেন।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খলিল আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে স্মারক আলোচক ছিলেন লেখক, গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। আলোচক ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিল জন, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল, জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাহ আযম। পরে ঢাকার প্রথিতযশা শিল্পীদের সমন্বয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে পতিসর কাচারিবাড়ি রবীন্দ্রভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।