রাজশাহী পর্যটন মোটেলের বারে মদপান করে বিল না দিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ হৃদয়সহ তার সঙ্গে থাকা কর্মীরা। পরে ছাত্রলীগের নেতারা সেখানে গিয়ে পুলিশের কাছে ক্ষতিপূরণ ও মুচলেকা দিলে অবরুদ্ধ নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার পরে ইশতিয়াক আহমেদ হৃদয় ১২-১৩ নেতাকর্মী নিয়ে বারে যান। এরপর তারা মদপান করেন। তাদের মোট সাত হাজার ২০০ টাকা বিল হয়। বিল চাওয়া হলে হৃদয় সংগঠনের পরিচয় দেন এবং দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তারা দুই কর্মচারীকে মারধর করেন। কর্মচারীরা পুলিশে ফোন করার চেষ্টা করলে দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর বারের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করা হয়। পরে সেখানে পুলিশ আসে।
ঘটনা জানতে পেরে রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাবিল হাসানসহ কয়েকজন নেতা সেখানে যান। এরপর ক্ষমা চান এবং ভুল স্বীকার করেন। তারা সেখানেই ভেঙে ফেলা কয়েকটি গ্লাসের ক্ষতিপূরণ দেন। তারপর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।
এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমেদ হৃদয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।
রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাবিল হাসান দাবি করেন, কর্মচারীদের সেভাবে মারধর করা হয়নি। সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে দুটি মোবাইল ভেঙে যাওয়ায় সেগুলো আমরাই মেরামত করে দিচ্ছি। যা ক্ষতি হয়েছে সেগুলোর ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এরপর মুচলেকা দিলে পুলিশ নেতাকর্মীদের ছেড়ে দিয়েছে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।
রাজশাহী পর্যটন মোটেল বারের ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেকেই মদপানের পর মাতলামি করেন। এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও এমনটিই করেছেন। তারা বেশ কিছু ক্ষতি করেছেন। ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না মর্মে পুলিশের কাছে মুচলেকা দেওয়ায় তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার এসআই কাজল নন্দী জানান, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্ষমা চেয়েছেন, ক্ষতিপূরণও দিয়েছেন। তাই বার কর্তৃপক্ষ কোনও অভিযোগ দেয়নি। এ জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।