মাহিকে হুমকি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলো যুবক

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে জুতাপেটা করার হুমকি দিয়েছে এক যুবক। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হুমকি দিয়ে পোস্ট শেয়ার করে ওই যুবক।

এ ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহাবুর রহমান ওরফে মাহাম নামের ওই যুবককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান। মাহাম তানোরের তালন্দের কালনা পূর্বপাড়ার মৃত ছদের আলীর ছেলে।

রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) মাহানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালত এবং নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ। আগামী ২৭ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে এমডি মাহাবুর নামের তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ওই পোস্ট শেয়ার করেন। তার কিছুক্ষণ পরে তিনি আবার পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তার ফেসবুক ঘেঁটে ভিডিওটি পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে, শনিবার রাতে অভিযুক্তের ফেসবুক আইডি থেকে স্বতন্ত্র জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শারমিন আকতার নিপার (মাহিয়া মাহি) নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করার জন্য তার সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও সম্মানহানিকর ভিডিও-বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালালে তাকে জুতাপেটা করা ও বাধা প্রদানের হুমকিসহ যেকোনও বড় ধরনের ক্ষতি করবেন বলে ভিডিওতে প্রকাশ করেন মাহাম।

উক্ত আচরণের মাধ্যমে আপনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ১১(ক) লঙ্ঘন করেছেন। যা নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ১১(ক) লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেন বিধি ১৮ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে মর্মে নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে আগামী ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

হুমকি দেওয়া ওই ভিডিওতে মাহাম বলেন, ‘আপনাকে (মাহিয়া মাহি) বলতে চাই। আপনি চলচ্চিত্র জগতের মানুষ। চলচ্চিত্র জগৎ থেকে এসেছেন। আপনার অতীত থেকে শুরু করে সব কিছু জানা আছে। ‘এ টু জেড’ সবকিছু জানি। অনেক কিছু। আপনার তথ্য জানি। চলচ্চিত্র জগতে কারা যায়, সেটা আপনি ভালো করে জানেন। আপনি ভুল জায়গায় নক দিয়েছেন। উনি একজন শহীদ পরিবারের সন্তান। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে নিয়ে নেগেটিভ-পজিটিভ মন্তব্য করার আগে নিজের পজিশনটা বিবেচনা করতে হবে। আপনি প্রথমে একটি বিয়ে করলেন গ্রামে। তাকে ডিভোর্স দিলেন। দ্বিতীয় বিয়ে করলেন সিলেটে। তাকে ডির্ভোস দিলেন। তৃতীয় বিয়ে করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি রাজনীতিতে এসে কেন এমপি ওমর ফারুককে নিয়ে মন্তব্য করবেন। আপনি যদি তানোর-গোদাগাড়ীর মাঠে ভোট করতে চান, সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে নিজের ভোট নিজে চেয়ে যান। আপনার দ্বারা তানোর-গোদাগাড়ীর উন্নয়ন তো দূরের কথা; হাজারো ছেলে নষ্ট হবে। আপনার মতো বেয়াদব মহিলাকে আমি এখনও বলছি, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে নিয়ে আর একটা যদি বাজে মন্তব্য কখনও করেন। বলার তো ভাষা নেই, আপনার মতো মাহিয়া মাহিকে একদম জুতা দিয়ে পেটানো উচিত। আপনি ওমর ফারুক চৌধুরীর বাসার কাজের মেয়ের যোগ্যও না।’

বিষয়টি নিয়ে মাহামের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ আসনের নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’