ঢাবি শিক্ষার্থী রহিম হত্যার দুই যুগ পর ৭ জনের যাবজ্জীবন

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের দক্ষিণ কানুপুর গ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহিম (৩০) হত্যা মামলায় সেনা ও বিজিবি সদস্য ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। 

রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম দুই আসামির উপস্থিতি ও পাঁচ জনের অনুপস্থিতিতে এ রায় দেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন ওসমান আলী সরদারের ছেলে আ. গফুর ওরফে গফুর (উপস্থিত), মামুনুর রশিদের ছেলে সোহাগ (উপস্থিত), মৃত হজরত আলী সরদারের ছেলে ফরহাদ আলী সরদার ওরফে ঝন্টু (পলাতক), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মাহমুদ তারিক ওরফে তারিক (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডলের ছেলে তৌফিকুল ইসলাম ওরফে তৌফিক (পলাতক), মৃত মনির উদ্দিন সরদারের ছেলে সেনাসদস্য ডুয়েল ওরফে বখতিয়ার (পলাতক) এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বিজিবি সদস্য হাসিবুল হাসান ওরফে হাসিবুল (পলাতক)।

এদের মধ্যে ডুয়েল ওরফে বখতিয়ার ২২ ব্যাটালিয়ন ঢাকা সেনানিবাসের নায়েব সুবেদার আর হাসিবুল হাসান ওরফে হাসিবুল বিজিবি-১৯ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহি পদে কর্মরত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুর রহিম ২০০০ সালের ৭ জানুয়ারি ঈদুল ফিতর উদযাপনে বিকাল ৫টায় ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলার দক্ষিণ কানুপুর গ্রামে আসেন। এরপর ওই বছরের ১১ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আর ফেরেননি। পরদিন ১২ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে দক্ষিণ কানুপুর গ্রামের পাশে একটি পুকুরপাড়ে তার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে আব্দুর রহিমের মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসাদুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে ২০০০ সালের ১২ জানুয়ারি বেগুনবাড়ি গ্রামের ঝন্টু, তৌফিকুল ইসলাম ও জুয়েলের নাম উল্লেখ করে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি মাহাবুব উল আলম আসামিদের স্বীকারোক্তিতে তদন্তে ৭ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে রবিবার দুই আসামির উপস্থিতিতে ও পাঁচ জনের অনুপস্থিতিতে আদালতের বিচারক এ রায় দেন।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল (পিপি), গকুল চন্দ্র মণ্ডল (এপিপি)। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মিজানুর রহমান।