বগুড়ায় বাবর আলী (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক সক্রিয় কর্মী ও ব্যবসায়ীকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (১২ আগস্ট) মধ্যরাতে শহরের ফুলবাড়ি বান্নিমেলা সেতুর ওপর এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রহমান।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বাবর আলী বগুড়া শহরের চক আকাশতারা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে। তিনি বাড়ি থেকে একটু দূরে ধাওয়াপাড়া বটতলা এলাকায় দোকানে মনোহারী পণ্যের ব্যবসা করতেন।
নিহতের মেয়ে বীণা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, বাবর আলীর দোকানে সব সময় লোকজন আড্ডা দিতেন। দলের এ দুঃসময়ে দোকানে বসে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের গুণগান করতেন। এতে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। তিনি সোমবার রাত ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ির দিকে রওনা দেন। বাড়ির কাছে পৌঁছালে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত তাকে আটক করে মারপিট করে। এরপর তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে শহরের ফুলবাড়িতে করতোয়া নদীর ওপর বান্নিমেলা ব্রিজে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘাতকরা সেখানে উল্লাস করে।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, দোকানের ভাড়া নিয়ে বিরোধে তিনি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা বাবর আলীকে গলা কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে হত্যা করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।