৭০ দিন পর জানা গেলো আন্দোলনে মারা গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জহিরুল

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার ৭০ দিন পর বিভাগের সভাপতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া পূর্ব পাড়া গ্রামে। কৃষক বাবা তাজুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে জাহিরুল তৃতীয় ছিলেন। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে নিজ এলাকায় গাড়িতে আগুন নেভানোর সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলামের বড় ভাই জাহিদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জহিরুল ৫ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে শহীদ হয়। সেদিন বিকালে তিন থেকে চার শতাধিক দুর্বৃত্ত আমাদের এলাকায় ভাঙচুর করেছিল। দুর্বৃত্তরা আমাদের বাড়ির তিন-চারটি বাড়ির পরে একটি মাইক্রোবাসে আগুন দিলে জহিরুল নেভাতে যায়। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। তারপরও তাকে আমরা পার্শ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলা চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাই। চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে রাতেই বাসায় এনে দাফন করি।’

তিনি বলেন, ‘জহিরুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বন্ধুকে সেদিন আমি বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পরদিন তাদের কয়েকজন আমাদের বাসায় এসেছিল এবং বিভাগের সভাপতির সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কাউকে সেভাবে বিষয়টি জানাতে পারিনি। পরবর্তীতে বিভাগে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আমি গিয়েছিলাম। আমি জহিরুলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

বিষয়টি এতদিন পর জানানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন না থাকায় আমরা কাউকে সেভাবে জানাতে পারিনি। পরবর্তীতে অন্য প্রশাসন আসার পর ছাত্র উপদেষ্টার মাধ্যমে বিভাগগুলো থেকে আন্দোলনে আহত বা নিহত শিক্ষার্থীর তালিকা চাওয়া হয়। এরপর প্রশাসনকে আমি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছি। এ ছাড়া জহিরুল শহীদ হওয়ার বিষয়টি জানার পরই বিভাগের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিলাম। পরে মিটিং করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করি। সেখানে তার বড়ভাই উপস্থিত ছিলেন।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্ট ড. আমিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমি তথ্য চেয়ে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারপরে এটা নিয়ে প্রতিটি বিভাগ এবং হলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। এর প্রেক্ষিতে আমার কাছে ১৫টি দরখাস্ত জমা পড়েছে। সেখানে দেখলাম জহিরুল নামের আমাদের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। অথচ এই সংবাদটি এতদিন আমাদের কেউ জানায়নি। জহিরুল রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঢাকায় আছেন। তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি আসলে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করবো। আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে আসবো। এ ছাড়া আন্দোলনে শহীদদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জহিরুলের পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো।