বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া এ আসনে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। ১৫০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পোস্টাল ব্যালট ছাড়াই ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ‘কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনা।’
এই আসনের প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান সোহেল ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আমিন তালুকদার।
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারচুপি ও ভোটের ফলাফল পাল্টানোর মাধ্যমে মাগুরা উপনির্বাচনের মতো আরেকটি পাতানো ও প্রহসনের নির্বাচন করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া পৌরসভার মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা শুরু থেকেই প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষকে জেতানোর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল পাল্টাতে ভোট গ্রহণের আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরের সিটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা আগেভাগেই ব্যালট পেপারে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, শুধু মালতিনগর নয়, সিটি স্কুল কেন্দ্রেও একইভাবে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা আগেভাগে ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে রেখেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম বিশেষ একটি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন এবং তাদের সুবিধা দিচ্ছেন। পুলিশ, জেলা প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলেও রিটার্নিং অফিসার প্রশ্নবিদ্ধ। কোনও ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসব অনিয়মের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জানিয়েছেন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পোস্টাল ব্যালট ছাড়াই ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। এখন গণনা চলছে। শেষ হলে ফল ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।