শনিবার দুপুরে জয়পুরহাট সদর উপজেলার কোচনাপুর গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ রিমা আক্তারের বড় ভাই হাসান আলী বাদী হয়ে শনিবার রাতে থানায় মামলা করেন।
নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ১০ মাস আগে জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকজগদিশপুর গ্রামের মাজেদুর রহমানের মেয়ে রিমা আক্তারের বিয়ে হয় একই এলাকার কোচনাপুর গ্রামের হাসান আলীর সঙ্গে। বিয়েতে রিমার স্বামীকে একটি মোটরসাইকেল দেওয়ারও চুক্তি হয়। সে মোতাবেক আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রস্তুতি নেন রিমার বড় ভাই হাসান আলী। (রিমার স্বামী এবং বড় ভাই দু’জনের নামই হাসান আলী)।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রিমার জেএসসি পড়ুয়া ননদ হাসনা খাতুনকে শনিবার শ্বশুর আব্দুল আলিম একটি জামা কিনে দেন। শুধু ননদের জন্য জামা কেনায় অভিমান করেন রিমা। বায়না ধরেন নিজের জন্যও নতুন শাড়ির। এ নিয়ে শাশুড়ি পপি খাতুন তাকে বকা ঝকা করেন। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান রিমা। ওই সময় রিমার স্বামী হাসান আলী রাজমিস্ত্রীর কাজে অন্যত্র ছিলেন। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। বেলা ১টার দিকে রিমার বাবার বাড়িতে খবর গেলে রিমার ভাই হাসান আলী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রিমার স্বামী হাসান আলী, শ্বশুর আব্দুল আলিম ও শাশুড়ি পপি খাতুনকে আটক করে। রাতে মামলা হলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
রিমা আক্তারের বড় ভাই হাসান আলী জানান,বিয়ের পর থেকে শাশুড়ির সঙ্গে তার বোনের প্রায়ই ঝগড়া হতো। বোনের জন্য একটি মোটরসাইকেল যৌতুক দেওয়ার কথা, যেটা আগামী ঈদুল ফিতরের আগে দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতিও নিয়েছেন। কিন্তু তার আগেই পরিকল্পিতভাবে তার আদরের বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন জানান, রিমা হত্যার অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাশুড়ি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। রবিবার বিকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
/বিটি/