ডিবি হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা

বগুড়ায় ডিবি পুলিশের হেফাজতে হত্যা মামলার আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, রবিবার সকালে তিনি হাজতখানার বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় লুঙ্গির ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

আসাদ সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি একই উপজেলার অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা (৪৫) হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে আসাদকে বগুড়া স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। রবিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, যাত্রীবেশি তিন দুর্বৃত্ত গত ২৮ জুন রাতে বগুড়া মহানগরীর বউবাজার এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে। সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকায় রাস্তার পাশে চালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। হত্যাকারীরা অটো চালকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁয় পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নিহত মান্নানের স্বজনরা ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন।

এরপর বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদকে গ্রেফতার করে। ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়।

আদালতে তার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল। রবিবার দুপুরে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। তার আগে ওইদিন বেলা ১০টার দিকে নাস্তার পর আসাদ ডিবি অফিসের হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করে। প্রায় ১০ মিনিট অতিবাহিত হলেও সে বের না হওয়ায় অন্য হাজতি বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় পরনের লুঙ্গি দিয়ে ফাঁস নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং ওসি ডিবি ইকবাল বাহার জানান, আসাদের আত্মহত্যার বিষয়ে তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতি সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে।