দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেট ধরা হয়ছে ১ হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকা। বগুড়া পৌরসভা থাকাকালে গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ১১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে নগরীর শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বাজেট ঘোষণা করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন। বাজেটে কর খাত থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পৌরসভা থাকাকালে গত অর্থবছরে এই খাতে আয় ছিল ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এবার কর খাতে সম্ভাব্য আয় প্রায় দ্বিগুণ ধরা হয়েছে।
তবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বহুতল ভবন ছাড়া অন্যান্য বাসাবাড়ির কর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর. ইসলাম স্বাধীন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া সিটি করপোরেশন। গত ২০ এপ্রিল এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে এক হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাতের কর ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সরকারি অনুদান চার কোটি ৪৬ লাখ টাকা, অন্যান্য রাজস্ব ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ৮০ লাখ ২০ হাজার টাকা, উন্নয়ন হিসাব (এডিপি) থেকে ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রকল্প হিসাব থেকে ৬৮০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রারম্ভিক রাজস্ব খাত ১২ কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৭ টাকা, এডিপি উন্নয়ন হিসাবে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে ২৮ দফা পরিকল্পনা উল্লেখ করে বাজেট ঘোষণায় প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। বাজেটে সিটি করপোরেশনের জন্য প্রথমবারের মতো মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত পুনরায় নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠন, বহুতল সপ্তপদী শপিং মল নির্মাণ, সাতমাথাসহ চারটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং নগরজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া নানা দিক থেকে অবহেলিত ছিল। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এই শহরের যে ধরনের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, দীর্ঘ সময়েও তা হয়নি। বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে বগুড়া দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বগুড়াবাসী একটি ভালো মানের বাজেট পেল। এই বাজেটের মাধ্যমে নগরের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
বাজেট অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, এনজিওকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।