পদ্মায় ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি, মা উদ্ধার হলেও নিখোঁজ বাবা-ছেলে

রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি-সংলগ্ন বিষপুর ফেরিঘাট (পদ্মা গার্ডেন) এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুরের জিয়ানগর থেকে আসা একটি নৌকায় মোট আটজন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বিষপুর ফেরিঘাটে থাকা সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ইজারাদারের নৌকা ও স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে নৌকার মাঝি কাউসার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৩২) নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বাড়ি পবার শ্যামপুরের জিয়ানগর এলাকায়।

নৌকাটিতে জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় করে ফিরছিলেন আটজন। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে সেটি পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমাণ অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা আট যাত্রীর মধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান কাউসার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন

ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে এবং নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপপরিচালক মনজিল হক বলেন, ‘নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। দুইজন করে তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে নজর রাখা হচ্ছে। দুজনকে উদ্ধারে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।’

এদিকে নৌকাডুবির খবর পেয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রাসিকের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী রাসিকের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এ সময় তারা উদ্ধার কার্যক্রমের সার্বিক খোঁজখবর নেন। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশন, প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।