সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনকে কেন্দ্র করে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকার বাসিন্দাদের বিরোধের জেরে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপির সফরসঙ্গী ফয়সাল বিশ্বাসকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, ফয়সাল বিশ্বাসের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এমপির গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
তবে ফয়সাল বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি এমপির সফরসঙ্গী ছিলেন, তবে কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রায়গঞ্জে টিটিসি স্থাপন নিয়ে কয়েকদিন ধরে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ধানগড়ার বাসিন্দারা টিটিসিটি ধানগড়া এলাকায় স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই দাবিতে দলমত নির্বিশেষে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
শনিবার বিকালে ধানগড়া এলাকায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় সংসদ সদস্য আয়নুল হক ঘটনাস্থলে গেলে তাকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এমপির গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এমপির সফরসঙ্গী ফয়সাল বিশ্বাস ধানগড়ার বাসিন্দাদের নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তাকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে রক্ষা করতে এমপি নিজের গাড়িতে তুলে নেন—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব রেজুয়ান হাসান সিফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে এনসিপির কোনও নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাকে জামায়াত-এনসিপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়া এনসিপিকে দায়ী করার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এনসিপির কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’
রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে জামায়াত-শিবিরের কোনও নেতাকর্মী ছিলেন না। টিটিসি স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা শুনেছি। এমপির সফরসঙ্গী বিতর্কিত ফয়সাল আহমেদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলেও শুনেছি।’
অন্যদিকে ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, ‘আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এমপির সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু কোনও উসকানিমূলক বক্তব্য দিইনি।’
এদিকে, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার রাতে রায়গঞ্জ থানায় মামলাটি করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান। তিনি বলেন, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় শনিবার রাতেই মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।