বাথরুম পরিষ্কার নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংস্কৃত বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা, মারধর, ইট দিয়ে আঘাত, কক্ষে আটকে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ছাত্রাবাসের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেছেন।

‎বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়ার ‘শুভ ভিলা’ নামের একটি ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।

‎ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম লেবানন বম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রাবাসটির নিচতলায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি।

অভিযুক্তের নাম হাসানুজ্জামান। তিনি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুলাল মিয়া। তিনিও ওই ছাত্রাবাসে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাসের যৌথ শৌচাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে লেবানন বমের সঙ্গে হাসানুজ্জামানের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাসানুজ্জামান লেবাননের কক্ষে গিয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। লেবানন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত আরও উত্তেজিত হয়ে তার গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনোভাবে গলা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পর লেবানন বমকে একটি ইট দিয়ে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন হাসানুজ্জামান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলাফোলা ও আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

‎লেবাননের অভিযোগ, তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইলে হাসানুজ্জামান কক্ষ থেকে বের হয়ে দরজায় হ্যাজবল লাগিয়ে তাকে ভেতরে আটকে রাখেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওসল চাকমা বলেন, বাথরুম অপরিষ্কার থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে হাসানুজ্জামানের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি তাদের গালিগালাজ করে নিজের কক্ষে চলে যান। কিছুক্ষণ পর লেবানন বমের সঙ্গে তার হাতাহাতি শুরু হলে তারা দুই জনকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। এ সময় হাসানুজ্জামান লেবাননকে মারধর করেন এবং ইট দিয়ে আঘাত করেন।

‎ওসল চাকমা আরও বলেন, লেবাননকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে ঘটনাটি অন্যদের জানাতে বের হওয়ার সময় তাকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পাশের মেসের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি সেখান থেকে বের হয়ে অন্যদের বিষয়টি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন, তিনি একজন বহিরাগত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব নিয়মে তার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

‎তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

‎প্রক্টর বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

‎চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি, বর্তমানে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’