রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাকসুর তহবিলের অর্থের হিসাব প্রকাশ ও অনিয়মের তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু রাকসুর ভিপির অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও এর একটি অংশের ব্যয়ের বিষয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়ার দাবি জানান।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সমালোচনা করে মিঠু বলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আগে আপত্তি ছিল। ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি ও রাকসুর অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তারও জবাবদিহি প্রয়োজন।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাকসুর অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসু প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা। কিন্তু তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, রাকসুর বিভিন্ন কর্মসূচিতে একই ধরনের কাজের জন্য অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর জন্য এলইডি স্ক্রিন স্থাপনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। অথচ রাকসুর পক্ষ থেকে একই ধরনের বড় পর্দায় খেলা দেখানোর জন্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার সময় বুথ স্থাপনের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহী বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নিয়ে তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহারের দাবি জানান তিনি।
এর আগে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিপরীতে বৈধ বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে বিক্ষোভে দেওয়া এসব অভিযোগের বিষয়ে রাকসুর সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।