রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে তহবিল থেকে এক কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা নিলেও খরচের বিল-ভাউচার ঠিকভাবে জমা দেননি। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনও বিল-ভাউচার এখনও জমা হয়নি। যদিও তিনটি ইভেন্টের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। তবে ৩৯টি কর্মসূচি শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস আগে। এ ছাড়াও বিপুল এই ব্যয়ের মধ্যে রাকসু ভিপির দাফতরিক ব্যয়ই দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিলেও ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি।
রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ৬ ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভিপি জাহিদ ঈদুল আজহার মাত্র একটি কর্মসূচির ৯৯ হাজার ৯২৪ ভাউচার জমা দিয়েছেন। বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার কোনও ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল ভিপি দেড় লাখ টাকার দাফতরিক খরচ নেন। এই টাকার কোনও হিসাব না দিয়েই গত ১৯ জুলাই আবারও দাফতরিক খরচ বাবদ দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়াও ৩ আগস্ট নেওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখানোর খরচে তিন লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা, একই তারিখে তিনি ভিক্টরি রান ইউথ রাকসু কর্মসূচির জন্য তিন লাখ ও ৬ আগস্টে নেওয়া জুলাই জাদুঘর স্থাপন বাবদ নেওয়া দুই লাখ ৮ হাজার টাকার কোনও হিসাব জমা দেননি।
এ বিষয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘যেকোনও কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু ভাউচার বিল এখনও জমা হয়নি। আমরা তাদেরকে সঠিক নিয়মে জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনও বরাদ্দ বা বাজেট নেওয়ার আগের গৃহীত অর্থের ভাউচার জমা দিয়ে তা অ্যাডজাস্ট (সমন্বয়) করতে হয়। রাকসু কোষাধ্যক্ষকে আমি বিষয়টি ইতিপূর্বেও নির্দেশ দিয়েছি যেন আগের হিসাবগুলো দ্রুত সমন্বয় করা হয়। দীর্ঘদিনের এক বড় অঙ্কের অর্থ এভাবে অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে।’









