এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে রিলিফের ৭৩ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। এসব চাল দরিদ্রদের না দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। তবে সরকারি এই চাল কার কাছ থেকে নিয়ে অবৈধভাবে গুদামজাত করা হয়েছিল তা প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ীর নাম বিপ্লব কুমার কুন্ডু। তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাটসিংড়া চাউলপট্টি বাজারের চাল ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তার দোকান সংলগ্ন গুদামটিতে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে সরকারি চাল পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা ৭৩ বস্তা চাল সরকারের খাদ্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। সেই চাল আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে গুদামজাত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী বিপ্লবের গুদামে অভিযান চালিয়ে সরকারি চাল পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ৭৩ বস্তা চালের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৭ হাজার ৩১০ টাকা। চালগুলো উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তবে সরকারি এই চাল কোনও জনপ্রতিনিধি বা চাল আত্মসাৎকারী চক্রের কাছ থেকে কিনে মজুত করা হয়েছিল কি না তা জানতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন না ধরায় এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।
চাল ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার কুন্ডু দাবি করেন, তিনি গরিব ব্যবসায়ী। লোভে পড়ে চালগুলো গুদামঘরে রেখেছিলেন। এখানে তার দোষ নেই।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমারের গুদামে নয়। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে কিছু লোভী ব্যবসায়ীদের গুদামেও সরকারি চাল পাওয়া যাবে! কারণ সরকারি চাল অবৈধভাবে আত্মসাৎ করে তুলনামূলক কম মূল্যে সিংড়ার বেশকিছু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে একটি চক্র। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চাল আত্মসাৎকারী এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান তাদের।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর বৃহস্পতিবার রাতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমারের গুদামঘরে অভিযান চালান। এ সময় গুদামঘর থেকে ৭৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুতের দায়ে ওই ব্যবসায়ীর নামে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।