৪৫ টাকা চায়ের বিল নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে দুই পক্ষের দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জয়ন্তীপুর বাজারের চা দোকানেই শামীম হোসেনের কাছে চা পান করা বাবদ মুদি দোকানি মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্রেতা মোস্তফার সঙ্গে চায়ের দোকানের সামনেই বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ওই চায়ের দোকানের সামনে জড়ো হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওই দুই ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। বারান্দায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরুর পর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আসে।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা বলেন, মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষের দুইজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুজনের অবস্থা খুব বেশি গুরুতর নয়। অন্যরাও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চা বিক্রেতা শামীম হোসেন দাবি করেন, বাকিতে চা পান করে দীর্ঘদিন ধরে মূল্য পরিশোধ করেননি মোস্তফা। ঘটনার দিন বকেয়া টাকা চাওয়ায় তাকে গালমন্দ করেন। এ সময় তিনিও ওই ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে শামীম লোকজন নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তফা বলেন, শামীম তার সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। প্রতিবাদ করায় লোকজন নিয়ে তার উপরে হামলা করেন। এতে তারা বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, চা বিক্রেতা ও মুদি দোকানি একই গ্রামের বাসিন্দা। বাজারে তাদের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাত্র ৪৫ টাকার হিসাব-নিকাশ নিয়ে দুই পক্ষেরই সংঘর্ষে জড়ানো ঠিক হয়নি।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেম। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি।









