পাবনার ফরিদপুরে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই কসাইকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সাজা দেন। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বেড়হাউলিয়া পূর্বপাড়া কাশেমের বটতলা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তাদের আটক করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের মঞ্জুর আলীর ছেলে রবিন প্রামাণিক (২৫) এবং খান মাহমুদপুর গ্রামের তাজের প্রামাণিকের ছেলে মোলাই মাণিক ওরফে বাবর আলী (৪০)।
ফরিদপুর থানার ওসি মনজুরুল হাসান মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে পুলিশের একটি মোবাইল টিম বেড়হাউলিয়া পূর্বপাড়া কাশেমের বটতলা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় সাঁথিয়াগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে অটোরিকশার পেছনের সিট ও ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো চামড়া ছাড়ানো গরুর কয়েকটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। পরে গাড়িতে থাকা দুই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পেশায় কসাই বলে জানায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অসুস্থ একটি গরু ৪০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন তারা। পরে গরুটি জবাই করে চামড়া ছাড়ানোর পর মাংস বিক্রির জন্য সাঁথিয়া পৌর এলাকার তাদের দোকানে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে গরুর মাংস পরিবহন ও বিক্রির বিষয়ে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ফরিদপুর থানার এসআই নূর মোহাম্মদ সরকার মাংসগুলো জব্দ করেন এবং দুইজনকে আটক করেন।
পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।