সারের গুদামে গরমিল, ১৭৬ বস্তার হদিস নেই

বগুড়া সদর উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বরাদ্দ করা সারের মজুদে গরমিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক ডিলারের গুদাম থেকে ১৭৬ বস্তা ডিএপি সারের হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় দুই ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সারের সঠিক হিসাব প্রস্তুত করে গুদামের মজুদ ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ অক্টোবর) বিকাল ও রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম ও কলোনি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াজেদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ এ পৃথক অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসি থেকে মেসার্স এস আর এগ্রো ও সোনালি ট্রেডার্স নামে দুই সার ডিলার ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উত্তোলন করেন। পরে গুদামে সংরক্ষিত সার ও খাতাপত্রের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় দুই ডিলারই মজুদের গরমিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি সারের মজুদ দেখিয়ে হিসাব ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববার বিকালে বগুড়া সদরের সাবগ্রাম এলাকায় মেসার্স এস আর এগ্রোতে অভিযান শেষে ইউএনও আবদুল ওয়াজেদ বলেন, ডিলার তার মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। গুদামে সার এলোমেলো অবস্থায় ছিল। মজুদের হিসাব ঠিক না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে মজুদ ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রাতে বগুড়া মহানগরীর কলোনি এলাকায় সোনালি ট্রেডার্সে অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩৭৬ বস্তা সার উত্তোলন করলেও ১৭৬ বস্তা সারের হদিস পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ডিলারশিপের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান বলেন, সার ও বীজের মজুদ নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।