কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫

জয়পুরহাটের কালাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের দুই নারীসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটে। ঘটনার পর রাতেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে চার জনকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন কালাই থানার ওসি সাইদুল আলম। তবে এখনও কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানান ওসি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে এক কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিলেন দোলন (১৮) নামের এক যুবক। পরে কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মালিপাড়ায় সালিশ ডাকা হয়। সেখানে উভয়পক্ষ আসার পর বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কিশোরীর পক্ষে তিনজন এবং যুবকের পক্ষে দুই আহত হন।

অভিযুক্ত দোলন বলেন, ‌‘সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছি মাত্র, দেইনিতো। এ জন্য কিশোরীর বাবা-মা লোকজনদের নিয়ে তিন জনের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। একজনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। একজনকে মারধর করেছে। হামলার সময় বাড়িঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’

কিশোরীর বাবা বলেন, ‘মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। কথা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে দুইপক্ষ তর্কে জড়ালে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের পক্ষের তিনজন আহত হন। একজনের অবস্থা গুরুতর।’

কালাই থানার ওসি সাইদুল আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’