ছাত্রলীগ নেতার প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা

নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের অফিস সহকারী পরিচয় দিতেন। দেখাতেন নানান ভয়ভীতি। এক পর্যায়ে অর্থ নিতেন হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে। এমন এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার ওই প্রতারকের নাম আবু হুরায়রা খালেদ ওরফে রাশেদ (৩০)। তিনি নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া মহল্লার জিয়াদুল ইসলামের ছেলে। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ওই প্রতারককে গ্রেফতারের কথা জানান নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফুল হক।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারক আবু হুরায়রা নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের অফিস সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। ওই ব্যক্তি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সবশেষ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চাকরিরত ছিলেন। এ সময় আবু হুরায়রা বাংলাদেশ বেতার ছাড়াও রংপুরে রেডিও টেকনিশিয়ান পদে সরকারি চাকরিও করেছেন।

মূলত চাকরিরত অবস্থাতেই এই ধরনের প্রতারণা শুরু করেন ওই যুবক। এক পর্যায়ে প্রতারণার মামলায় রংপুরে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস সহকারী হিসেবে পরিচয় দিতেন আবু হুরায়রা। ওই পরিচয়ে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলতেন। এমনকি বিএনপির দলীয় পদ ও নির্বাচনি মনোনয়ন দেয়ারও আশ্বাস দিতেন। এসব প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন এ প্রতারক।

পুলিশের ভাষ্য, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের পর বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমেই বেশি অর্থ আদায় করতেন আবু হুরায়রা।

গ্রেফতারের পর প্রতারক আবু হুরায়রার বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করেছে পুলিশ। আবু হুরায়রার দেওয়া তথ্যমতে তার সহযোগীদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।