রাজশাহী বোর্ডের ৩৯ কলেজের কোনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ–৫ প্রাপ্তি— দুই সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। তবে জেলার এই সাফল্যের বিপরীতে পুরো বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর বোর্ডে পাসের হার কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছে। তবে জিপিএ–৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

এ বছর বিভাগের আট জেলায় মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনও পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন।

বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার শিক্ষার্থী ১ হাজার ৭৮৫ জন, যা বোর্ডে মোট জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সূচকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া জেলা। সেখানে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩০৯ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাবনায় এ সংখ্যা ৫৫০।

পাসের হারেও রাজশাহী জেলা সবার ওপরে। এ জেলায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাস করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জয়পুরহাট জেলা।

এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। সে হিসাবে অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।

রাজশাহী জেলায় পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ হাজার ৮৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ৫৪০ জন। বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর মেয়েদের ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোর্ডে জিপিএ–৫ পাওয়া ৪ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন এবং মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এ বছর বিভাগের আট জেলায় মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনও পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন।

ফলাফল সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।’