প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে বিপাকে ফায়ার ফাইটার

নওগাঁর পত্নীতলায় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক ফায়ার ফাইটারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী স্ত্রীর দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ও নিজেকে অবিবাহিত দেখিয়ে বৈবাহিক তথ্য গোপন করেছিলেন তিনি। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে ওই ফায়ার ফাইটারের দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত ফায়ার ফাইটারের নাম হাসিবুল হাসান। তিনি বর্তমানে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত।

প্রথম স্ত্রী তামান্না ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। পরে ২০২১ সালে বিয়ের কাবিন সম্পন্ন করেন তারা। ২০২২ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার পদে যোগ দেন হাসিবুল। তবে চাকরির আবেদন ও নিয়োগের সময় নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করে বৈবাহিক তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ তামান্নার।

তামান্নার দাবি, তার প্রবাসী বাবা-মা হাসিবুলের চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে প্রায় দুই মাস আগে তিনি জানতে পারেন, হাসিবুল নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রামনারায়ণপুর বিহারীনগর এলাকার ইখলাছ হোসেনের বড় মেয়ে মারিয়াকে বিয়ে করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে স্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। তামান্না ভাষ্যমতে, একদিন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে হাসিবুল তাকে সঙ্গে নিয়ে যান। পরে পত্নীতলার নজিপুর এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে যেতে বলেন। নিজে পরে ফিরবেন বললেও আর ফিরে আসেননি।

তামান্না বলেন, রাতে জানতে পারি, আমাদের সংসারের টিভি, ফ্রিজ, সোফা, প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকারসহ যাবতীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে হাসিবুল আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা মারিয়ার বাবা ইখলাছ হোসেন তার মেয়ের সঙ্গে হাসিবুলের বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হাসিবুল ও আমার মেয়ে দুজন প্রেম করে বিয়ে করেছে। আমাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করে। তবে হাসিবুলের আগে বিয়ে হয়েছিল বা তার প্রথম স্ত্রী আছেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না।

তবে দ্বিতীয় বিয়ে ও চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিবুল হাসান। তিনি বলেন, আমি মারিয়া নামে কোনও মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করিনি। চাকরিতে তথ্য গোপনের অভিযোগটিও সঠিক নয়।

এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ তুলে গত ৭ অক্টোবর পত্নীতলার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তামান্না ইসলাম। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করানো হয়। গত ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে হাসিবুলের দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, ফায়ার ফাইটার হাসিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীকে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।