নাটোরে ৫টি ইউনিয়নে বিএনপিসহ ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট বর্জন

নাটোরদেশব্যাপী ৩য় ধাপে ইউপি নির্বাচনের অংশ হিসাবে নাটোর সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও প্রায় ৩ ঘণ্টা ভোট চলার পর ৫টি ইউনিয়নে বিএনপিসহ মোট ৬ জন চেয়ারম্যানপ্রার্থী তাদের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হালসা ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল, একই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, লক্ষিপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, তেবাড়িয়া ইউনিয়নে গোলাম সারোয়ার, ছাতনী ইউনিয়নে সুলতান আহম্মেদ ও কাফুরিয়া ইউনিয়নে খবির উদ্দিন শাহ স্ব স্ব ইউপি এলাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া দিঘাপতিয়া ও বড় হরিশপুর ইউনিয়নে কোনও চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা না দিলেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযোগ পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দাবি করেছেন, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৪৬ জন বিএনপি অনুসারী ভোটার ও এজেন্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মাগুরায় নির্বাচনি সংঘর্ষে আহত ৫

ছাতনী ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান আহম্মেদ দাবি করেন, শুক্রবার রাত থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর অনুসারীরা বিএনপি ভোটার ও এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তাই ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার কারণে তারা তেলকুপি কেন্দ্রে ৪-৫ জন এবং আগদিঘা কেন্দ্রে ৩-৪ জনের ওপর হামলা চালায়। একই এলাকার আগদিঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তারা বিএনপি সমর্থিত মেম্বর প্রার্থী শাহাজালালকে মারধর করে। এসব কারণে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন পাশাপাশি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পূণ:নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

তেবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার জানান, ইউনিয়নের কৈগাড়ি কৃষ্ণপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন তার ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। লোচনগড় এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময়ও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।  

এজেন্ট আলহাজ নূর মোহাম্মদ জানান, তিনি চৌধুরী বড়গাছা ব্র্যাক স্কুলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা  তাকে কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দিয়েছে।  

এছাড়া ছাতনী ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত মেম্বর প্রার্থী ফিরোজ, হালসা ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, লক্ষিপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও কাফুরিয়া ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী খবির উদ্দিন শাহ একই ধরণের অনিয়ম, হুমকি, এজেন্টদের বের করে দেয়া, হামলা,ভোটদানে বাধা ইত্যাদি অভিযোগ করেছেন।

জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক জানান, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় তেবাড়িয়া ইউনিয়নে ২২ জন, ছাতনী ইউনিয়নে ৯ জন, কাফুরিয়া ইউনিয়নে ৫ জন, লক্ষ্মিপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৪ জন ও হালসা ইউনিয়নে ৬ জনসহ মোট ৪৬ জন বিএনপি এজেন্ট ও ভোটার আহত হয়েছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন করতে চেয়েছিল কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও তাদের ক্যাডার বাহিনীর কারণেই বিএনপির ৫ প্রার্থীকে নির্বাচন বর্জন করতে হয়েছে। বাকি ২টি ইউনিয়নেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা টিকে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে জেলা বিএনপি দ্বিধায় রয়েছে।

তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ পূণ:নির্বাচনের জন্য কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

/এআর/