বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেসব পণ্য রফতানি হয় সে পণ্যগুলি হলো সুগার ক্যান মুলাসিস (চিটাগুড়), রাইস ব্রান্ড অয়েল (তুষের তেল ) ঝুট কাপড় এবং প্লাস্টিকের ঝুড়ি (ক্যারেট), শ্যালোমেশিনের পাম্প, সিমেন্ট ও সুতা।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূতে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে গত ২০২০১৪-১৫ অর্থবছরে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ১২ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন ও ৬০৭০পিস পণ্য রফতানি করে সর্বমোট ২২ লাখ ৩ হাজার ৩১৯ মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ২০২০১৫-১৬ ইং অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে বিভিন্ন প্রকার ৬ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন ও ৩২,২৭৮ পিস বিভিন্ন প্রকার পণ্য রফতানি করে তা থেকে আয় হয়েছে ৪৪ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ মার্কিন ডলার। এর ফলে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য কম রফতানি হলেও তা থেকে ২২ লাখ ১১ হাজার ৮৪১ মার্কিন ডলার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩৯ টাকার সমান।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে কটন র্যাগস (ঝুটকাপড়) ৭২ মেট্রিক টন, ক্রড রাইস ব্রান ওয়েল (তুষের তেল) ৫ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন, সুগার ক্যান মোলাসিস (চিটাগুড়) ৫শ মেট্রিক টন, সিনথেটিক ফিলামেন্ট ইয়ার্ন (সিনথেটিক সুতা) ৪০মেট্রিক টন, ওয়াটার পাম্প উইটআউটমটর (সেচযন্ত্র) ৩২ হাজার ২৭৮ পিস। এভাবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সর্বমোট ৬ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন ও ৩২২৭৮ পিস পণ্য ভারতে রফতানি করে যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৪৪ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৪ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪০ টাকার সমান।
এর আগের গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হিলিস্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ১২ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন ও ৬০৭০পিস পণ্য রফতানি করে সর্বমোট ২২ লাখ ৩ হাজার ৩১৯ মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল। যা বাংলাদেশি টাকায় ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৫ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের রফতানিকারক ব্যবসায়ী শ্যামল কুমার দাস বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য বোঝাইকৃত বাংলাদেশি ট্রাকগুলোর ভারতে প্রবেশের যে সময় সীমা বেঁধে দেওয়া রয়েছে তা আরও বাড়ানো দরকার তাহলে বন্দর থেকে পণ্য রফতানির পরিমাণ বাড়বে। এছাড়াও বন্দরের রাস্তা ঘাটগুলো সম্প্রসারণ না হওয়ায় প্রায়ই যানজটে পড়তে হয় রফতানিকৃত পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলোকে। এর ফলে ট্রাকগুলোকে প্রতি দিন অতিরিক্ত বিলম্ব ফি (ডিটেনশন) দিতে হয়। এতে করে এ বন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রফতানিতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে যার ফলে বন্দর থেকে পণ্য রফতানির পরিমাণ কমেছে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হলে এ বন্দর দিয়েও বেশ পরিমাণ পণ্য ভারতে রফতানি করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানিতে কাগজ পত্রের তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অনেক কাগজ পত্রের ঝামেলা পোহাতে হয়। সেক্ষেত্রে স্থানীয় হিলি কাস্টম কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়টির দিকে আরও একটু নজর দিত তাহলে এ বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানির পরিমাণ আরও বাড়তো।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিশেষ করে কাচা পণ্য যেমন আলু হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি করতে হলে আমাদের বাংলাদেশ অংশে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র রয়েছে সেখানে পণ্যের মান থেকে শুরু অন্যান্য সকল পরীক্ষা-নীরিক্ষা সম্পূর্ণ করে সনদ নেওয়ার পরে ভারতে তা রফতানি করা সম্ভব হয়না শুধুমাত্র ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ন্যায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র না থাকার ফলে। যার ফলে কলকাতা বা দিল্লি থেকে খাদ্যজাত দ্রব্যের উদ্ভদ সংগনিরোধ সনদ নিয়ে আসতে বাড়তি সময় লাগার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে খাদ্যজাতদ্রব্য তেমন কোন পণ্য রফতানি হয়না। এছাড়াও ভারত অংশের হিলি কাস্টমসের উচ্চমানের কোনও কর্মকর্তার পদায়ন না থাকায় অনেক পণ্যের আমদানি বা রফতানির কাগজপত্রাদি দুশ’ কিলোমিটার দূরে মালদহ বা কলকাতা থেকে তৈর করিয়ে আনতে হয়। এছাড়া ভারত অভ্যন্তরে ওয়্যার হাউজ গড়ে না ওঠায় ও আমদানি পণ্য পার্কিং করে না রাখার সুবিধাজনক অবস্থান না থাকায় এবং রাস্তাঘাট সরু হওয়ার কারণে পণ্যজটের সৃষ্টি হয় এতে করে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এসব নানা কারণে গুঁড়োদুধ, চানাচুর, জুসসহ এ ধরনের সব পণ্যের ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও বন্দরের নানাবিধ সমস্যার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রফতানি করা যাচ্ছে না। এসব পণ্য দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রফতানি করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মতো ভারতের অভ্যন্তরে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র স্থাপন, স্থানীয় কাস্টমসে উচ্চপর্দস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে এ বন্দর দিয়েও ভারতে আলু, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য কাচাপণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র কুণ্ডু বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে মূলত পণ্য আমদানির সংখ্যাই বেশি। বন্দর দিয়ে অল্প সংখ্যক পণ্য ভারতে রফতানি হয়ে থাকে যা সন্তোষজনক নয়। বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্যগুলি ছাড়করণ দেওয়া হয়। তবে স্থলবন্দরের রাস্তা-ঘাট সম্প্রসারণ ও হিলি দিয়ে ভারতে পণ্য রফতানি করতে ভারতের অভ্যন্তরে যে সকল প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করা গেলে বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি অনেকাংশে বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
/এইচকে/
পড়ুন: হাবিপ্রবিতে সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত