জিকা প্রতিরোধে হিলি চেকপোস্টে বিশেষ সতর্কতা

63559a546dd4547151b74797b3ffe6fb-57581f9001b4dদিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারীদের মাধ্যমে দেশে যাতে জিকা ভাইরাস প্রবেশ বা ছড়াতে না পারে সে লক্ষ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে জিকা ভাইরাস শনাক্তকরণে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে কাজ করছে বিশেষ মেডিক্যাল টিম।
মঙ্গলবার সরেজিমন হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা প্রত্যেক পাসপোর্টধারী যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে শারীরিক চেকআপের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরে তাদের পাসপোর্ট ছাড়করণ ও দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আসা-যাওয়া যাত্রীদের সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
এদিকে গত কয়েক মাস আগে বাইরের কয়েকটি দেশে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সবগুলো স্থলবন্দর, নৌবন্দর, বিমান বন্দরে বিশেষ সর্তকতা জারি করে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। এর পরে সম্প্রতি কয়েকদিন আগে আবারও সিঙ্গাপুরে নতুন করে ১০ জন রোগী জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে নতুন করে সর্তকতা জারির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মেডিক্যাল টিম গঠন করে জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করানো হচ্ছে।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা আবু হেনা উজ্জ্বল বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক বিশেষ একটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। প্রত্যেক যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জিকা ভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত যাত্রীদের শরীরে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, জয়েন্টে ব্যাথা হওয়া এ ধরনের কোনও সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে তাদের আলাদা করে তাদের শরীরে জিকা ভাইরাস আছে কিনা সেটি নির্ণয়ের কাজ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের লক্ষণ রয়েছে এমন কাউকে এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরেও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুজ্জামান বলেন, হিলি স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শত পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাওয়া-আসা করে। এদের মধ্যে বিশেষ করে ভারত থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে যাতে দেশে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি দেশে প্রবেশ না করতে পারে সে লক্ষ্যে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে একটি মেডিক্যাল টিম কর্মরত রয়েছে। কোনও পাসপোর্টধারী যাত্রীকে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এমন সন্দেহ দেখা দিলে আমরা তাকে মেডিক্যাল টিমের কাছে পাঠাই। তারা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দিলে আমরা তাদের আমাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকি।

/এআর/