বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল হক প্রধান জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সোমবার রাতেই লাশ উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত কথিত পীর ফরহাদ হোসেন চৌধুরী দিনাজপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তার বাড়ি দৌলা গ্রামে। নিহত রুপালী বেগম মাধবপুর গ্রামের হসের আলীর মেয়ে এবং ফরহাদ হাসান চৌধুরীর পালিত মেয়ে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এই ঘটনায় কোনও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি শত্রুতামূলকভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটাও দেখছে পুলিশ।
এদিকে, এলাকাবাসী জানান, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ফরহাদ হোসেন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি নিজেকে পীর বলে দাবি করতে শুরু করেন। দরবার শরীফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা করতেন, যারা সবাই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকতেন। ঘটনার তিনদিন আগে নিহত রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সঙ্গে। তবে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল নিখোঁজ রয়েছে।
দরবার শরীফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ জনি জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে দরবার শরীফে এসে তারা দেখেন বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বিছানায় শুয়ে আছেন। এরপর তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, কে বা কারা তাকে হত্যা করে পালিয়েছে।
নিহত ফরহাদ হাসান চৌধুরীর স্বজন ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মালেক হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজনকে মোটরসাইকেল যোগে চলাফেরা করতে দেখেছেন তারা। তবে বিষয়টিতে তেমন কোনও গুরুত্ব দেননি। হয়তো তারা এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৮টার দিকে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা এলাকায় কথিত পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী ও তার পালিত মেয়ে রুপালী বেগমকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
/বিএল/
এ সংক্রান্ত আগের খবর:
দিনাজপুরে পীরসহ দুইজনকে হত্যা