গাইবান্ধার অরকা-হোমস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অরকা-হোমস প্রতিষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা-বালাসিঘাট সড়কের তেঁতুলতলা থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে একটি তিনতলা ভবন, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি ও বিনোদনের ব্যবস্থা। পাশেই রয়েছে হোসেনপুর মুসলিম একাডেমি। স্বাস্থ্যসম্মত ও ঘরোয়া পরিবেশেই এখানে বেড়েছে উঠছে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো পোশাক শ্রমিকদের ৪৪টি শিশুসন্তান। এর মধ্যে কেউ কেউ আড়াই বছর ধরেই রয়েছে অরকা-হোমসে। আর স্কুলে যাওয়ার উপযোগী শিশুগুলোর পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে পাশের হোসেনপুর মুসলিম একাডেমিতে।
অরকা-হোমসে অবস্থানরত এসব শিশুদের একজন এগার বছর বয়সী স্বপন ইসলাম। তার বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার খারমি গ্রামে। তার বাবা নেই। মা ফিরোজা খাতুন পোশাক শ্রমিক ছিলেন। তিনি (ফিরোজা) রানা প্লাজা ধসে মারা যান। মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে স্বপন। বাবা-মা না থাকলেও অরকা-হোমসে সেই অভাব অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে সে। বাংলা ট্রিবিউনকে স্বপন বলে, ‘বাবা-মা না থাকরেও এখানে পড়ালেখার সুযোগ আছে, বিনোদনের সুযোগ আছে, পারিবারিক আবহ-ও আছে। বাবা-মায়ের মতো আদর-যত্ন করেই আমাদের এখানে রাখা হয়।’
শুধু স্বপন, আল আমিন বা আলিফ হাসানই নয়, তাদের মতো রানা প্লাজার ভবন ধসে বাবা-মা হারানো বিভিন্ন জেলার ৪৪টি শিশু এখন মাতৃস্নেহে বেড়ে উঠছে আরকা-হোমসে। তাদের লেখাপড়াসহ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে অরকা-হোমস নামের গাইবান্ধার এই প্রতিষ্ঠানটি।
অরকা-হোমসের তদারকির দায়িত্বে থাকা হোসেনপুর মুসলিম একাডেমির উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাত জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখানে শিশুদের তদারকির দায়িত্বে আছে। হোমসে অবস্থানরত শিশুদের লেখাপড়া শেষ হলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও কর্মসংস্থান এবং প্রয়োজনমতো বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শিশুরা যেন বাবা-মায়ের স্নেহের অভাব বুঝতে না পারে, আমরা সেই চেষ্টাই করছি। ওদের জন্য খেলাধুলা ও বিনোদনের সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, একটি শিশু নিজের পরিবারে যেভাবে লালিত-পালিত হয়ে থাকে, আমাদের এখানেও তেমনটিই হচ্ছে।’
আরও পড়ুন-
বৈসাবির বেচা-কেনা জমে উঠেছে পাহাড়ে
কুমারপাড়ায় বৈশাখী আমেজ, তুলির শেষ আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা
/টিআর/