গাইবান্ধায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ১০ দিনেও এসব এলাকার মানুষের অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। চার উপজেলার পানিবন্দি আড়াই লাখ মানুষ খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছে বলে তারা জনান। তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কটে আছেন। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করলেও এখনোও তাদের কাছে পৌঁছেনি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী। জেলা প্রশাসন ত্রাণ সহায়তা ও নগদ টাকা বিতরণ করলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম বলে অভিযোগ দূর্গতদের।
ফুলছড়ির বন্যাদূর্গত এলাকার আফছার আলী অভিযোগ করে বলেন,‘১০ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। কাজকর্ম ও হাতে টাকা না থাকায় ঠিকভাবে খেতে পারছি না। এই দশ দিনে ত্রাণ তো দূরের কথা কেউ এসে খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।
ফুলছড়ির পশ্চিম খাটিয়ামারি চরের আন্না বেগম বলেন,‘ঘরে পানি বাইরে পানি। এরমধ্যে কোনও রকমে বেঁচে আছি। খাবার অভাবে স্বামী-সন্তান নিয়ে কষ্ট করছি। এত কষ্টের মধ্যেও কপালে ত্রাণ সহায়তা জোটেনি।’
এদিকে, স্রোত ও প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়া-রতনপুর, কাতলামারী, রতনপুর, কঞ্চিবাড়ির কাইয়াহাট এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েণ্টে বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়বে অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ। তবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে মাটির বস্তা ফেলে ভরাটের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রবিবার সকাল পর্যন্ত ব্রক্ষপুত্র-যুমনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধার দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, জেলার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৯৪ গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৩৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৩ জন।
এরইমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ২৯৫ মেট্রিক টন চাল, সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ও এক হাজার শুকনা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : পাবনায় অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার