হিলিতে একদিনে পেঁয়াজের পাইকারি দাম বাড়লো ১০ টাকা

আমদানি কমায় হিলিতে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকাভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমেছে। এতে করে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। মাত্র একদিনের ব্যবধানে মান ভেদে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। বুধবারও (২ আগস্ট) যে পেঁয়াজ ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার তা ৩০ থেকে ৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। সামনে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও এখন তা দাঁড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাকে। চলতি মাসের ১ আগস্ট বন্দর দিয়ে ৪৩টি ট্রাকে ৮৫৩ টন, ২ আগস্ট ২৫টি ট্রাকে ৫০২ টন, ৩ আগস্ট ২৯টি ট্রাকে ৫৮২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আর গত জুলাই মাসে ২৬ কার্যদিবসে ১ হাজার ৯৭টি ট্রাকে ২২ হাজার ৪৫৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

আমদানি কমায় হিলিতে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকাবন্দরে ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানিকৃত নাসিক জাতের মোটা গোলটা পেঁয়াজ ও ইন্দোর জাতের মোটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে (ট্রাক সেল) প্রকার ভেদে ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা দরে। যা গত বুধবারও (২ আগস্ট) ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর পাটনা, শেখপুরা ও রাজস্থান জাতের আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে। একদিন আগেও এসব জাতের পেঁয়াজ ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর দাম বেড়েছে। একদিন আগে প্রকারভেদে (কিছুটা নিম্নমানের) যে পেঁয়াজ ২২ টাকা থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল সেই পেঁয়াজ এখন প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি জাতের যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩২ টাকা থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে সে পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. হারুন উর রশীদ হারুন ও মামুনুর রশীদ লেবু জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতের নাসিক, কানপুর, ইন্দোর ও রাজস্থান অঞ্চলে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে এবং পেঁয়াজের বাজারও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। এর ফলে পেঁয়াজ আমদানির জন্য প্রচুর পরিমাণে এলসি খোলা থাকলেও ভারতীয় রফতানিকারকরা চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজ রফতানি করতে পারছেন না। এর ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। শুধু হিলি স্থলবন্দর নয় দেশের সব বন্দর দিয়েই পেঁয়াজ আমদানির অবস্থা একই।

অপরদিকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কম হওয়ায় দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে সামনে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ভারতীয় রফতানিকারকরা জানিয়েছেন।

/বিএল/