প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত নির্দেশ বিগত ৪ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা, বলে অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা জেলায় দায়িত্ব পালনকালে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের পরিবার। শনিবার দুপুরে রংপুর সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী আরেফা বেগম। এসময় তার ছেলে আলমগীর ও মেয়ে তানমিন আখতার উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর যুদ্ধপরাধের মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনসহ ৪ পুলিশকে হত্যা করে।
কিন্তু গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি সেসব নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এরপর আমার বড় ভাই আলমগীরকে উপ পরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমার পরিবারের সদস্যরা কয়েক দফা রংপুর ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপার রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজির সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু তারা বারবারই আমার ভাইকে এসআই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা দিতে বলেন। এদিকে এবছরই আমার ভাইয়ের চাকরির বয়সসীমা শেষ হতে চলেছে অথচ চাকরি দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’
এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘স্বামী নিহত হওয়ার পর এখন আমরা নিঃস্ব। ছেলের একটা চাকরি হলে কোনওরকমে সংসার চলতো সেটাও হচ্ছে না। এখন তার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে, এ অবস্থায় একমাত্র প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে আমার ছেলেটা চাকরি পেতে পারে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশনার পর ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে পুলিশ সদর দফতরে আইজি শহিদুল হকের সভাপতিত্বে রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশ সদস্য হত্যা সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে আলমগীরকে এসআই পদে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে জন্য আইজি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন। তারপরও তিনি কোনও চাকরি পাননি।
/এমও/