জামায়াতের হাতে নিহত পুলিশের ছেলে চাকরি পাননি, উপেক্ষিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত নির্দেশ বিগত ৪ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা, বলে অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা জেলায় দায়িত্ব পালনকালে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের পরিবার। শনিবার দুপুরে রংপুর সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নিহতের স্ত্রী আরেফা বেগম। এসময় তার ছেলে আলমগীর ও মেয়ে তানমিন আখতার উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য তোজাম্মেল হোসেন

প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর যুদ্ধপরাধের মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনসহ ৪ পুলিশকে হত্যা করে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কপিলিখিত অভিযোগে নিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের মেয়ে তানমিন আখতার জানান, ওই ঘটনার পর একই বছরের ৪ এপ্রিল তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের মতো তাদেরও কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানেই তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়ার আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৩ জুন নিহত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের যোগ্যতা সাপেক্ষে পুলিশ বিভাগে উপযুক্ত পদে চাকরি প্রদানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের আইজির কাছে চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুল মালেক।

কিন্তু গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি সেসব নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এরপর আমার বড় ভাই আলমগীরকে উপ পরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আমার পরিবারের সদস্যরা কয়েক দফা রংপুর ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপার রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজির সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু তারা বারবারই আমার ভাইকে এসআই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা দিতে বলেন। এদিকে এবছরই আমার ভাইয়ের চাকরির বয়সসীমা শেষ হতে চলেছে অথচ চাকরি দেওয়ার কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবারনিহত তোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী আরেফা বেগম অভিযোগ করেন জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা ঢাকায় দু’বার পুলিশের আইজির সঙ্গে দেখা করার জন্য গেলেও তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু আইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘স্বামী নিহত হওয়ার পর এখন আমরা নিঃস্ব। ছেলের একটা চাকরি হলে কোনওরকমে সংসার চলতো সেটাও হচ্ছে না। এখন তার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যাচ্ছে, এ অবস্থায় একমাত্র প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে আমার ছেলেটা চাকরি পেতে পারে।’

পুলিশের বিশেষ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তনিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের একমাত্র ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত নির্দেশনা দেওয়ার পর আশা করেছিলাম যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশের এসআই পদে চাকরি হবে। কিন্তু তার কিছুই হয়নি।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশনার পর ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখে পুলিশ সদর দফতরে আইজি শহিদুল হকের সভাপতিত্বে রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশ সদস্য হত্যা সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে আলমগীরকে এসআই পদে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে জন্য আইজি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন। তারপরও তিনি কোনও চাকরি পাননি।

/এমও/