নীলফামারীর ডোমার উপজেলা ও পৌর সভায় ১ হাজার ১৮৬টি পুকুরে বন্যার পানি ঢুকে প্রায় ২১১ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এর ফলে মাছ চাষিরা প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, এ উপজেলায় সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় ৮ হাজার ৯২টি পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। যার আয়তন ৫৬৩ দশমিক ৫০ হেক্টর। লিজ নিয়ে ও ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব পুকুর ও জলাশয়ে বিভিন্ন জাতের মাছ ও রেনু পোনা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।
এখানে রুই, কাতলা, মৃগেল,পাঙ্গাস, সিং, কৈ, পাবদা, টেংরা ও মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদিত হয়।উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে এ এলাকার মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান পাইকাররা ।
গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে হরিণচড়া, সোনারায়, পাঙ্গামটকপুর, বোড়াগাড়ি ও গোমনাতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে লিজকৃত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১ হাজার ১৮৬টি পুকুর ও জলাশয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে। যার আয়তন প্রায় ১৩২ দশমিক ১৩ হেক্টর। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাছ চাষি বাদশা আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমার লিজ নেওয়া ১টি বিল (বদলীর বিল) ও ১০টি পুকুরের প্রায় ৪/৫ শ’ মন ব্রুড (মা মাছ) মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৭০/৮০ লাখ টাকার মাছ আমার চোখের সামনে ভেসে গেলো। আমার চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। আমি এখন সর্বশান্ত হয়ে গেছি।
অন্য মাছ চাষিদেরও একই অবস্থা। শত চেষ্টা করেও তারা জলাশয় ও পুকুরের মাছ রক্ষা করতে পারেননি। তারাও মূলধন হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন। কিভাবে এই মোটা অঙ্কের লোকসান কাটিয়ে উঠবেন এটাই এখন তাদের কাছে বড় চিন্তা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা.শারমিন আক্তার বাংলা ট্রিবিইনকে জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ও খামার মালিকদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে গোবিন্দগঞ্জে মানুষের উপচে পড়া ভিড়