সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক মেরামত করা হলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীন গ্রামীণ সড়ক ও ব্রিজ, কালভার্ট সংস্কার না করায় সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় খাদের সৃষ্টি হলেও তা এখনও সংস্কার করা হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও পণ্যবাহী বিভিন্ন যানবাহন।
সদর উপজেলার পাঁচগাছি ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এখনও সংস্কার করা হয়নি।
যাত্রাপুরের গারুহারা ও বলদি পাড়া গ্রামের পাকা সড়কে এখন বড় বড় গর্ত। সড়কটির একটি অংশ ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হওয়ায় এই দুই গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বসতভিটায় ফিরলেও অর্থাভাবে এখনও থাকার জায়গাটুকু মেরামত করতে পারেনি।
এনামুল বলেন, ‘নিজে শ্রম দিয়া আস্তে আস্তে মাটি কাটি ঘরের গর্ত পূরণ করবার লাগছি, কিন্তু টিনের অভাবে ঘরের বেড়া দিবার পাচ্ছি না।’
একই গ্রামের হাজরুদ্দি বলেন, ‘ঘরের ভিতর এখনও কুড়া (বড় গর্ত)। হাতে কাজ নাই, কোনও মতে পুরান টিন দিয়া বেড়া দিলেও ঘরত মাটি কাটার টাকা পাইতেছি না। গর্তের মধ্যে চকি নিয়া বউ বাচ্চাসহ থাকি।’
একই অবস্থা ওই গ্রামের শাহজাহান, হবিবর, আয়শাসহ ২০/৩০টি পরিবারের। এরা সবাই দিনমজুর হলেও এলাকায় কোনও কাজ না থাকায় রোজগারও করতে পারছেন না। শাহজাহান জানান, কষ্ট করে কিছু টাকা যোগাড় করে পেটে খাবার দিতে পারলেও ঘরবাড়ি মেরামত করার অর্থ যোগাড় করতে পারছেন না। ফলে জীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন (গৃহ নির্মাণ) ও সড়ক মেরামতের জন্য সরকারি কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি জানিয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সড়কের তালিকা করে উপজেলা পরিষদে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘আসলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। রাস্তাঘাট মেরামত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রাক্কলন ব্যয় তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। এই সপ্তাহেই বরাদ্দ অনুমোদিত হতে পারে। আশা করি তখন গৃহহারাদের সমস্যাও মিটে যাবে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি মেরামত করা হয়েছে। বাকিগুলো মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।
আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নয়, বাপ-দাদার জমিতেই বসতি চান সাঁওতালরা