শীতের তীব্রতায় বেড়ে যাওয়া গরম কাপড়ের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকার খুচরা কাপড় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত দু’-তিনদিন ধরে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে।
মেহের আলী নামে এক কাপড় বিক্রেতা জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার শীত কিছুটা দেরিতে এসেছে। এতদিন বিক্রি কম থাকলেও গত কয়েকদিন বিক্রি বেড়েছে।
মৃদু শৈত্য প্রবাহে জেলার নদী তীরবর্তী উপজেলাগুলোর মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে চিন্তায় আছে দরিদ্র পরিবারের লোকজন।
সদর উপজেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র ঘেঁষা পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন থাকি খুব ঠাণ্ডা পড়ছে। নদীর কাছত বাড়ি জন্যে হামাক ঠাণ্ডা আরও বেশি লাগে। কম্বল আর খ্যাতা (কাঁথা) গাত (গায়ে) দিয়াও ঠাণ্ডা যায় না। খ্যারত (খড়ে) আগুন দিয়া গাও (শরীর) গরম করি।’
শীতের তীব্রতা বাড়ায় শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঠাণ্ডায় গরম কাপড় না পরে বাইরে বের হওয়া যাবে না। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের যেন কোনোভাবে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে তাদের থাকার জায়গার তাপমাত্রা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক এএইচএম মুফাক্ষারুল জানান, চলতি মাসের ১৫-২০ তারিখ পর্যন্ত আবহাওয়ার অবস্থা এমনটাই চলতে পারে। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন থেকে জেলায় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। মৃদু শৈত্য প্রবাহ আগামী কয়েকদিন থাকতে পারে। আগামীতে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেয়ে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
তীব্র শীতে শ্রীমঙ্গলে জীবনযাত্রা ব্যাহত