গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত, বখাটে গ্রেফতার

গাইবান্ধা জেলা

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে আশিক নামে এক বখাটে ও তার সহযোগীরা। সোমবার (২৬ আগস্ট) রাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী বর্তমানে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত আশিককে গ্রেফতার করেছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান এ কথা জানান।

আহত স্কুলছাত্রী হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত আশিকুর রহমান আশিক (২৪) হরিরামপুরের পাশের নাকাইহাট ইউনিয়নের কুঞ্জনাকাই গ্রামের ফজলুর রহমান কালুর ছেলে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে স্কুলছাত্রীর স্বজনরা জানায়, বখাটে আশিক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় আশিক ও তার সহযোগীরা তাকে উত্ত্যক্ত করতো। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় আশিক ক্ষিপ্ত হয়। গত সোমবার রাতে ৫-৬ জন বখাটেকে নিয়ে আশিক ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ঘুমন্ত স্কুলছাত্রীকে জানালার ফাঁক দিয়ে ছুরিকঘাত করে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে ওই পরিবারের ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, হত্যার উদ্দেশ্যেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্কুলছাত্রীর বুকসহ একটি স্তন কেটে গেছে। সেখানে ২০টির বেশি সেলাই দেওয়া হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে সে এখনও অসুস্থ। ভয়ের কোনও কারণ নেই।  দুই-তিন দিনের মধ্যে সে বাড়ি ফিরতে পারবে।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ওই ছাত্রীর সহপাঠী, শিক্ষকরা ও এলাকাবাসী বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধন করেছে। এ সময় তারা ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আশিক ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আশিকের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার পর স্কুলছাত্রীর বাবা বখাটে আশিকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর অভিযুক্ত আশিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মাকে আটক করা হয়েছে। আশিকের সহযোগীরা পালিয়ে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাহাত গাওহারী। তিনি জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীর পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।