পুরনো এলসির দেড় হাজার টন পেঁয়াজ সীমান্তের ওপারে দেশে ঢোকার অপেক্ষায়

হিলি স্থলবন্দর

অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বাংলাদেশসহ অন্য দেশে পেঁয়াজ রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। এ কারণে গত তিন দিন ধরে কোনও পেঁয়াজ রফতানি করেনি ভারত। তবে পুরনো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয় নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) যে কোনও সময় অনুমতি মিলতে পারে। সে ক্ষেত্রে  বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে দেশে পেঁয়াজের ট্রাক ঢুকতে পারে বলে মনে করছেন আমদানিকারকরা।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর ফলে ও হিলি স্থলবন্দরে আমদানিকারকদের ঘরে থাকা পেঁয়াজ বিক্রি করায় দাম কমতে শুরু করেছে। আগে ৮০/৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা কমে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন মান খারাপ হওয়ার কারণে পেঁয়াজের দাম কমেছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, অভ্যন্তরিন বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও দাম বৃদ্ধির ফলে গত রবিবার বিকেলে হঠাৎ করে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এ কারণে বন্দর দিয়ে ওই দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় দেড় হাজার টন পেঁয়াজ ভারতে আটকা পড়েছে। এর পর থেকেই পুরানো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও জানান, তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দিল্লিতে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে কোনও সুরাহা হয়নি। এ কারণে সেদিন পেঁয়াজ রফতানি হয়নি। বুধবার (২ অক্টোবর) দিল্লিতে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু কোনও রেজাল্ট হয়নি। তবে আজ ( ৩ অক্টোবর) যে কোনও সময় এর ফলাফল আসতে পারে। তাতে রফতানির অনুমতি মিলতে পারে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। অপরদিকে বন্দরে কতগুলো পেঁয়াজের ট্রাক আটকা রয়েছে এমন একটি তালিকাও দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে আজ না হলে পূজার কারণে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকার কারনে ওই সময়ের মধ্যে আর পেঁয়াজের ট্রাক আসার সম্ভাবনা নেই।