করোনার কারণে এবার বই উৎসব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রংপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য চাহিদার অর্ধেক বই এসেছে। আর ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এখনও বই আসেনি। ফলে ১ জানুয়ারিতে তাদের বই দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৮টি এছাড়াও কিন্ডার গার্ডেনসহ বেসরকারি বিদ্যালয় মিলে প্রায় দুই হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা হচ্ছে ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৪টি। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ১০ লাখ ৯৩ হাজার ২২৯৬টি বই উপজেলা শিক্ষা অফিসে পৌঁছেছে। বাকি বই ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে চলে আসার আশা করছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, করোনার কারষে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি যে বই উৎসব হয় এবার তা হচ্ছে না। শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান সিদ্দিক বলেন, প্রাথমিক স্কুলগুলোর চাহিদার অর্ধেক বই আসার কথা স্বীকার করে বলেন বাকি বই আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে চলে আসবে। ঢাকা থেকে এখন সরাসরি নতুন বই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চলে আসে। সেখান থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বই স্ব স্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কোনও নতুন বই আসে না। সরাসরি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কার্যালয়ে বই চলে যায়। তবে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নতুন বই কিছু আসে যদি কোনও বিদ্যালয় বই সংকট হলে সেখান থেকে বই সরবরাহ করা হয়। ফলে বই সংকটের কোনও সম্ভাবনা একেবারে নেই।
অন্যদিকে ৬ষ্ঠ দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রংপুর বিভাগের ৮ জেলার কোনও বিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত বই সরবরাহ করা হয়নি। এ ব্যাপারে বিভাগীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কবে বই আসবে এমন কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। এ ব্যাপারে বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অফিস সহকারী আল আমিন হোসেন জানান, এখনও বই আসেনি প্রতিবছর এ সময় বেশির ভাগ নতুন বই চলে আসে এবার হয়তো করোনা মহামারির কারণে ছাপার সমস্যার কারণে আসতে বিলম্ব হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ১ জানুয়ারি বই উৎসব হচ্ছে না এমনকি কীভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হবে তারও কোনও নির্দেশও আসেনি।
এ ব্যাপারে রংপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এখনও রংপুরের স্কুলসহ জেলার হাইস্কুলগুলোয় কোনও বই এসে পৌঁছেনি। তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করছেন ১ জানুয়ারির আগেই বই চলে আসবে।