রংপুরে করোনার টিকা দেওয়া শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি

রংপুরসহ বিভাগের ৮ জেলার জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ ৬০ হাজার করোনার টিকা আগামী রবিবার (৩১ জানুয়ারি) রংপুরে এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলায় করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে রংপুর বিভাগের জন্য আপাতত ৬০ হাজার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পর পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী টিকার সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ইতোমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া ৬০ হাজার টিকা বিভাগের ৮ জেলার জন্য জেলাওয়ারি বন্টন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলার জন্য ২০ হাজার ৪শ’, দিনাজপুরের জন্য ৯ হাজার ৬শ’, কুড়িগ্রামের জন্য ৬ হাজার, লালমনিরহাটের জন্য ৩ হাজার ৬শ’, গাইবান্ধার জন্য ৭ হাজার ২শ’ নীলফামারীর জন্য ৬ হাজার, পঞ্চগড়ের জন্য ২ হাজার ৪শ’ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য ৪ হাজার ৮শ’ টিকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনার জন্য আসা টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্য থেকে একটি টিম ঢাকায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য অবস্থান করছে। তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ২-১ দিনের মধ্যে চলে আসবেন। তারা এসে আবার রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছে, ইপিআই কর্মসূচির যাবতীয় টিকা সংরক্ষণ এখানেই করা হবে। ফলে কোনও সমস্যা হবে না।

এ ব্যাপারে রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি রংপুরে করোনার টিকা এসে পৌঁছাবে। একই সময়ে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার জন্য টিকা আসবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. আহাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় করোনার টিকা দেওয়া শুরু হবে। চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে টিকা সরবরাহ করা হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ১০  মাসে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৭৪৯ জনের। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ১৫ হাজার ৮২৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৫৮ জন। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন দিনাজপুরে, ১৯ জন। এর পরই রয়েছে রংপুর জেলা। এখানে মারা গেছেন ৭৩ জন। সবচেয়ে কম মারা গেছেন লালমনিরহাটে, ১১ জন।