রংপুরে মোবাইলফোনের ভ্রাম্যমাণ বাজার, বাড়িয়েছে করোনার ঝুঁকি

করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ আর লকডাউনের মধ্যেই বিভাগীয় নগরী রংপুরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সামনে প্রতিদিন বসছে ভ্রাম্যমাণ মোবাইলফোনের হাট। এখানে শত শত বিক্রেতা কাঁধে ও হাতে করে ফেরি করে বিক্রি করছেন বিভিন্ন কোম্পানির দেশি-বিদেশি মোবাইলফোন। তবে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোনও বালাই নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে এবং করোনার সংক্রমণও ভয়াবহ হতে পারে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই ভ্রাম্যমাণ মোবাইলফোন মার্কেট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যারা মোবাইলফোনের পসরা নিয়ে বসছেন তারা সবাই মার্কেটের দোকানদার ও কর্মচারী। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে মার্কেটটি বন্ধ, আসলে বেশিরভাগ দোকানই শাটার নামিয়ে মোবাইলফোন বিক্রি করছে। 

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা ভ্রাম্যমাণ দোকানে মোবাইলফোনের খদ্দেরের চাইতে দোকানদার ও কর্মচারীর সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। চিৎকার করে খদ্দেরদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন তারা। তবে কারও মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। গাদাগাদি ও ঠাসাঠাসি করে অবস্থান করে তারা এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনা করছেন। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনও দৃশ্য এসময় দেখা যায়নি। এতে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

জানা গেছে, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের দুই ব্যবসায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া শতাধিক দোকানি ও কর্মচারীও আক্রান্ত হয়েছেন। 

এদিকে নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় এভাবে ভ্রাম্যমাণ বাজার পরিচালনা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। 

ভ্রাম্যমান মোবাইল ফোনের দোকানদার রিজু, সোলাইমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, লকডাউনের কারণে মার্কেট বন্ধ থাকায় ফেরি করে তারা মোবাইলফোন বিক্রি করছেন। খদ্দেররাও আসছেন। প্রতিদিন গড়ে ২-৩শ’ মোবাইলফোন বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তারা। 

মুখে মাস্ক নেই, সামাজিক দূরত্বও মানা হচ্ছে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি।

মোবাইলফোন কিনতে আসা নগরীর সিও বাজারের আমিরুল ইসলাম বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ফোন কিনতে এসেছি। তবে মোবাইল কিনতে এসে প্রতারিত হয়েছি। স্যামসাং, রেডমি, অপ্পোসহ বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইলফোনের লোগো লাগিয়ে নকল সেট বিক্রি করার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফোন বিক্রির কোনও রশিদও দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

একই অভিযোগ পীরগঞ্জ থেকে আসা সাহেদুল ইসলামের। তিনি বলেন, সরকারিভাবে অনুমোদিত মোবাইলফোন বিক্রি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা মোবাইলফোন বিক্রির নামে প্রতারণা করছেন। 

তবে মোবাইলফোন কিনতে আসা কোনও খদ্দেরের মুখে মাস্ক নেই কেন, জানতে চাইলে নানান অজুহাত দেখান তারা।

এদিকে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের সামনের বেশ কিছু দোকানদার অভিযোগ করেছেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এভাবে ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনায় করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন দোকান পরিচালনা বন্ধে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।  

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।