ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চলমান বাস-ট্রাক-ট্যাংক লরি ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শনিবারও (৬ নভেম্বর) রংপুর থেকে কোনও দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। বিশেষ করে ঢাকাগামী ও আন্তঃজেলার অর্ধশতাধিক রুটে চলেনি কোনও বাস। আগাম টিকেট নিয়ে যারা নগরীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন তারা পড়েছেন বিপাকে। চাকরিতে যোগদান, জরুরি প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর। বাসের ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা হবে কষ্টদায়ক। এ অবস্থায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
ঢাকায় যাওয়ার অগ্রিম টিকেট কেটে স্ট্যান্ডে এসে বাস চলাচল করবে না জেনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৃহবধূ মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, সরকার ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের আবারও বিপদে ফেললেন। আবার ভাড়া বাড়বে, বাড়তি টাকা আমরা কোথায় পাবো।
এদিকে ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে কৃষকরা হতাশার কথা জানিয়েছেন। জমিতে সেচ দিতে হলে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে কাজ করতে হয়। রংপুরের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, এখন আলু রোপণ করা ও গম চায়ের সময়। আলু রোপণ ও গম চাষ করতে হলে জমি তৈরি করা আলু ও গমের বীজ রোপণ করতে কয়েক দফা পানি দিতে হবে। এমনিতেই গত বছর উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য তো দূরের কথা আসল টাকাই আসেনি। এছাড়াও ধান চাষ করতে জমিতে প্রচুর সেচ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত কৃষকদের ওপর নির্যাতন করার সামিল।
রংপুর নগরীর কাছেই দর্শনা এলাকার কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ডিজেল ছাড়া কোনও ফসলের চাষ করা যায় না। কারণ জমিতে পানি সেচ দিতে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর ভরসা করতে হয়। এমনিতেই আমরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই না। তার ওপর ডিজেলের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার কৃষকদের প্রতি চরম অবিচার করেছেন।
একই কথা বলেন, পার্শ্ববর্তী উত্তম এলাকার কৃষক সালেহ মিয়া, আঙ্গুর আলীসহ অনেকে। তারা ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান।