পুষ্টিতে ভরপুর দানাদার ফসল কিনোয়া। মানবদেহে জোগান দেয় শক্তি, বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ই, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস এটি। কিনোয়া নিয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে বড় আকারের গবেষণা। পটুয়াখালী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীতে ইতোমধ্যেই ফসলটির পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে।
নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জের মাগুড়া ইউনিয়নের শাহপাড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া ও বিহারী চন্দ্র রায় চাষ করছেন কিনোয়া। বিহারী ২০ শতাংশ ও শাহাজাহান ১২ শতাংশ জমিতে চাষ করছেন। বাজার ধরতে পারলেই নতুন ফসলটি বদলে দিতে পারে তাদের মতো আরও অনেকের ভাগ্য।
শাহজাহান মিয়া জানান, প্রতিদিনই কিনোয়া দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষজন ভিড় করছেন।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে কিনোয়ার ব্যাপক চাহিদা আছে। বাংলাদেশে এখনও সেভাবে বাজার গড়ে না উঠলেও ঢাকাসহ স্থানীয় শহরগুলোতে চাহিদা আছে। বাংলাদেশে এখন আমদানি হচ্ছে ফসলটি। আমদানি করা প্রতি কেজি কিনোয়া কিনতে হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকায়।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, লাতিন আমেরিকা ও মেক্সিকোসহ ইউরোপের দেশগুলোতে পুষ্টি ও ঔষধি ফসল হিসেবে এর চাষ হয়। স্বাদের কারণে এটাকে অন্য খাবারে মিশিয়েও খাওয়া হয়।
কিশোরীগঞ্জ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, গত বছর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর পরিমল কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিনোয়ার বীজ সরবরাহ করি। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে মাগুড়া ইউনিয়নে দুই কৃষককে দিয়ে ৩২ শতাংশ জমিতে চাষ শুরু করি। কিছুদিনের মধ্যে তারা এ ফসল তুলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, কিনোয়াকে অনেকে সুপারফুড বলে। এতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং এটি লাইসিন সমৃদ্ধ। রান্না করা হলে এর দানাগুলো আকারে কিছুটা বেড়ে যায়।