উদ্বোধনের আগে টিসিবির পণ্য বিক্রি করায় ক্ষেপে গেলেন কাউন্সিলর

রংপুরের ১০টি স্থানে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগে পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ায় ডিলার ও উপকারভোগীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজু। 

এদিকে, টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা তৈরি ও কার্ড দেওয়া নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক দুস্থ পরিবার কার্ড পায়নি, পেয়েছে সচ্ছল পরিবার। এক পরিবারে তিন-চারটি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

সরেজমিনে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কামারপাড়ায় টিসিবির পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় নগরীর কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, নারী-পুরুষদের দুটি লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে পণ্য দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজু বেলা ১১টা পর্যন্ত সেখানে না আসায় পণ্য বিক্রি শুরু করেননি ডিলার। এরপর পণ্য বিক্রি শুরু করেন। বেলা সোয়া ১১টায় কাউন্সিলর মিজু সেখানে এসে পণ্য বিক্রি দেখে ক্ষিপ্ত হন। তার আসার আগে কেন পণ্য বিক্রি শুরু তার জবাব চান ডিলারের কাছে। এ অবস্থায় ডিলার পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেন। লাইন থেকে নারী-পুরুষদের সরিয়ে দেন।পরে ডিলার ও উপকারভোগীরা ক্ষমা প্রার্থনা করায় বেলা সাড়ে ১১টায় পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মিজু। এরপর পণ্য বিক্রি শুরু হয়।

পুরুষদের লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই সচ্ছল পরিবারের বলে অভিযোগ করেন সাইফুল ইসলাম নামে এক নির্মাণশ্রমিক। তিনি বলেন, এখানে প্রায় দুই হাজার মানুষকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই সচ্ছল। অথচ আমার মতো অসচ্ছল অনেকে কার্ড পাননি। 

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক বাড়িতে তিন-চারটি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলর পছন্দের ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে কার্ড দিয়েছেন। 

একই অভিযোগ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড দিয়ে পণ্য কিনছেন তাদের বেশিরভাগ সচ্ছল। তারা কীভাবে কার্ড পেয়েছেন আমরা জানি না। অথচ এলাকার অনেক অসচ্ছল পরিবার কার্ড পায়নি।

একইভাবে নারীদের লাইনে দাঁড়ানো বেশ কয়েকজন কার্ডধারীকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে, তাদের পাকা বাড়ি আছে। তারা সচ্ছল। তারপরও টিসিবিরফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। তারা বলেছেন, কাউন্সিলর মিজু দিয়েছেন কার্ড।

আকলিমা বেগম জানান, তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। দুই সন্তান নিয়ে কোনোরকমে চলছে সংসার। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলে। অথচ কাউন্সিলরের কাছে অনেকবার গিয়ে কার্ড পাননি। কাউন্সিলর বলেছেন পরে দেবেন। কিন্তু পরে তো কার্ড পাওয়ার সুযোগ নেই তার।

একই কথা জানালেন সালেহা বেগম, মনি বেগম ও লাইলী বেগমসহ অনেকে। তাদের অভিযোগ, তারা কার্ড পাননি। অথচ সচ্ছল অনেকে টাকা দিয়ে কার্ড পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজু বলেন, অসচ্ছল অনেক পরিবারকে কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমার ওয়ার্ডের তিনটি স্থানে সাড়ে তিন হাজার নারী-পুরুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ ওয়ার্ডে পাঁচ হাজার পরিবার আছে, যাদের কার্ড পাওয়া উচিত। কিন্তু ওই পরিমাণ কার্ড না পাওয়ায় দেওয়া সম্ভব হয়নি। 

কিন্তু অনেক সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এ নিয়ে আপনার মতামত কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ আমি পাইনি।