কলেজটি এমপিওভুক্ত হতেই আগের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়েছেন অধ্যক্ষ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষক-কর্মচারীকে বাদ দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতি যোগসাজশ করে ‘অবৈধভাবে’ নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তারা।

নিজেদের নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথি উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের ভূগোল বিষয়ের বাদ পড়া প্রভাষক মোহাম্মদ আলী। তিনি অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন কেদার মহিলা মহাবিদ্যালয়টি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিজেদের দানের জমি ও পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রক্ত-ঘামের বিনিময়ে কাজ করে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজের বিভিন্ন কাজের জন্য তারা কেউ স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার, কেউ জমি বিক্রি এবং ঋণ করে জনপ্রতি প্রায় ১৭ লাখ করে টাকা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাফিজুল মন্ডলকে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে এই শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল। ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জরিপ ও ব্যানবেজে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলে কলেজ অধ্যক্ষ তাদের কাছে নতুন করে আরও ১০ লাখ করে টাকা দাবি করেন। সে টাকা দিতে না পারায় অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে যান।

তার দাবি, অধ্যক্ষ ও কলেজ সভাপতির যোগসাজশে নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন প্রভাষক ও ২ জন প্রদর্শককে বঞ্চিত করে তাদের স্থলে অবৈধভাবে অন্য প্রভাষক ও প্রদর্শক নিয়োগ করেন। ৬ নভেম্বর নতুন শিক্ষকদের নাম ২০২২-২০২৩ সালের ব্যানবেজে অন্তর্ভুক্ত করেন যা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ-এর ২৬(খ) এবং ১৭.২ নং দফার পরিপন্থি। সে নিয়মে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবরের পর কোনও প্রতিষ্ঠান কোনও প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।

এ বিষয়ে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে জেলা শিক্ষা অফিস, পরিচালক রংপুর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা বরাবর অভিযোগ করার পরও এর সুরাহা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাদের সরকারি চাকরির বয়স শেষ। এই চাকরি না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে কলেজ মাঠে আত্মাহুতি দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় থাকবে না বলেও জানান।

তবে বঞ্চিত শিক্ষকদের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান মন্ডল। তার দাবি, ‘তারা কেউ শিক্ষক নন। এনটিআরসির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের নিয়োগ কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের কারও নিবন্ধন নেই। ফলে তাদের নিয়োগ হওয়ার সুযোগ নেই।’

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যানবেজে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য বিবরণীতে অভিযোগকারী শিক্ষকদের নাম ও তথ্য থাকা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ব্যানবেজের তথ্য ইনপুটের পাসওয়ার্ড সবার জানা থাকায় তারা নিজেরা নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটা যে কেউ করতে পারে।’

অধ্যক্ষের এসব দাবির বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের প্রতিনিধি ও বাদ পড়া শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর পর থেকে প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের কার্যক্রমে আমাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণও করেছি। সেগুলোর প্রমাণপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। ধাপে ধাপে আমাদের অনেকের শিক্ষক নিবন্ধনও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য প্রতিষ্ঠান এমপিও ঘোষণার পরই আমাদের বঞ্চিত করে বেআইনিভাবে অন্যদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেখাচ্ছেন।’